সাইফ হাসানের ফেরার চেষ্টা!

টানা ব্যর্থতা, সেটা জাতীয় দল হোক, কিংবা ঘরোয়া বা এ দলের কোনো খেলা। সাইফ হাসান রীতিমতো অন্ধকারে নিভে যাওয়া প্রদীপ হয়ে গিয়েছিলেন। একটু আলোর সন্ধান তাঁর সবচেয়ে বেশি দরকার। এমন সময়ে যেন সেই আলোর খোঁজ তিনি পেলেন।

টানা ব্যর্থতা, সেটা জাতীয় দল হোক, কিংবা ঘরোয়া বা এ দলের কোনো খেলা। সাইফ হাসান রীতিমতো অন্ধকারে নিভে যাওয়া প্রদীপ হয়ে গিয়েছিলেন। একটু আলোর সন্ধান তাঁর সবচেয়ে বেশি দরকার। এমন সময়ে যেন সেই আলোর খোঁজ তিনি পেলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা এ দলের বিপক্ষে ৫২ বলে ৬১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ফেরার একটা বার্তা দিয়ে রাখলেন।

জাতীয় দলে একেবারেই নিজেকে খুঁজে পাচ্ছেন না সাইফ। ২০২৫-এর এশিয়া কাপে যে ঝলক নিয়ে সাড়া ফেলেছিলেন, সময়ের সাথে সাথে তা একপ্রকার বিলীন হয়ে গেছে। সাইফকে কোথাও আর সেভাবে পাওয়া যায়নি। কালেভদ্রে দু-একটা ভালো ইনিংস খেলেছেন, তবে ব্যর্থ ইনিংসগুলোর সংখ্যা এত বেশিই যে সেটাকে আর মূল্যায়ন করার সুযোগ ছিল না।

নানাভাবে ফেরার চেষ্টা চলেছে। নেটে ঘাম ঝরিয়েছেন, ফর্মের ফেরার জন্য যা করার করেছেন তিনি। তবে মাঠে নামলেই সব গুলিয়ে যাওয়ার উপক্রম। দক্ষিণ আফ্রিকা এ দলের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে বৃষ্টিতে ভেসে গেলেও ব্যাট করার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। ১৩ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি তিনি। যেভাবে আউট হয়েছেন সেটাও মেনে নেওয়া নেহাত কষ্টের ব্যাপার।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও বৃষ্টির প্রভাব ছিল। ম্যাচের কোনো রেজাল্টই আসেনি। শেষ ম্যাচটা তাই সাইফ হাসানের জন্য নিজেকে প্রমাণের শেষ সুযোগ। অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে। চাপের বিপক্ষে শেষ একটা লড়াই করা চাই। এতসব হিসাব মাথায় নিয়েই নামতে হয় তাঁকে।

দক্ষিণ আফ্রিকা এ দল লক্ষ্য ছুড়ে দেয় ১৮৩ রানের। হাতের নাগালে রান, সাইফ এই সুযোগটাই কাজে লাগালেন। একেবারে ইনিংসের শুরু থেকেই আগ্রাসন ঠিকরে বেরিয়েছে ব্যাট থেকে। অপর প্রান্তে দাঁড়িয়ে তাঁর সতীর্থ নাঈম শেখ দেখেছেন সাইফ ছন্দে থাকলে কী হতে পারে। বোলাররা যেখানেই বল ফেলেছেন, সেটাকে দৃষ্টিনন্দন সব শটে সীমানার ওপারে ফেলেছেন। ওপেনিং জুটি থেকেই বাংলাদেশ পায় ৯২ রান। যার মধ্যে ৬১ রান সাইফের নামের পাশে। মাত্র ৫২ বল ফেস করেছেন, এর মধ্যেই নিজেকে ছন্দে পাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে গেলেন।

সাইফের এই ইনিংসটা তাঁর জন্য জরুরি ছিল। টানা ব্যর্থতার তিনি ভুলেই গিয়েছিলেন রান করতে পারেন। স্বাভাবিক খেলাটা যেন ঢেকে দিয়েছিল একটা ভয়। সেই ভয়টা অবশেষে সাইফ জয় করেছেন। এখন এই আত্মবিশ্বাসটাকে পুঁজি করে ব্যাট হাতে ধারাবাহিক হতে পারলেই আসল কাজটা হবে। নইলে এটাও ওই কালেভদ্রে দেখানো একটা ইনিংসের ঝলক হয়েই পড়ে থাকবে।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link