প্রিমিয়ার লিগের চতুর্থ সপ্তাহের ম্যাচে ঘরের মাঠে ফুলহ্যামের ডিফেন্সিভ ব্লককে ভাঙতে পারেনি লিভারপুল। দুই দলের কোচিং ডাগআউটে বড় পরিবর্তন আসার পর এই ট্যাকটিক্যাল ডুয়েলে আলভারো আরবেলোয়ার ডিফেন্সিভ কৌশলই শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছে, যা ম্যাচটিকে ০-০ গোলের সমতায় আটকে রাখে।
লিভারপুলে যোগ দেওয়ার পর ইরাওলা তাঁর ট্রেডমার্ক ম্যান-টু-ম্যান হাই প্রেসিং ফুটবল অ্যানফিল্ডে বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে অ্যালিসন থেকে শুরু করে দুই উইঙ্গার বারকোলা ও ভিক্টর মুনিওজ ফুলহ্যামের বিল্ড আপ আটকে দিতে প্রতিপক্ষের অর্ধে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেন।
কিন্তু ফুলহ্যামের বক্সে ঢোকার পর ফাইনাল থার্ডে সিদ্ধান্তহীনতা এবং ফিনিশিংয়ের অভাবে সেই চাপকে গোলে রূপান্তর করা সম্ভব হয়নি। ম্যাচের ২২ মিনিটে মুনিওজের হেড ক্রসবারে আঘাত করা ছাড়া ইরাওলার শিষ্যরা খুব বেশি পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেননি।

ফুলহ্যামের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম তিন ম্যাচে পয়েন্ট না পাওয়ায় এই ম্যাচে আরবেলোয়ার অগ্রাধিকার ছিল অ্যানফিল্ড থেকে অন্তত এক পয়েন্ট নিশ্চিত করা। রিয়াল মাদ্রিদ থেকে আসার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আরবেলোয়া ফুলহ্যামকে অত্যন্ত কমপ্যাক্ট ৪-২-৩-১ জোন ডিপ সলিড ব্লকে সাজান।
সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে বার্নার্ড বের্গে ও চার্লসকে দিয়ে লিভারপুলের প্লে মেকার ফ্লোরিয়ান উইর্টজকে খেলার কোনো জায়গা দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি ডান প্রান্তে কাভিন বাসসে ও কেনি টেটের পজিশনিং লিভারপুলের বিপজ্জনক অ্যাটাকিং ক্রসিং লাইনগুলো দারুণভাবে প্রতিহত করেছে।
ম্যাচের ৬০ মিনিটের পর ইরাওলা গতি বাড়াতে ম্যাক অ্যালিস্টার ও কোডি গাকপোকে নামিয়ে ৩-২-৪-১ আকারে ফুলহ্যামের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেন। শেষ ১৫ মিনিটে ওলুওয়াসেয়ি এনগুমোহা ও জেরেমি ফ্রিম্পংকে নামিয়ে উইংজুড়ে তীব্র গতি ব্যবহার করলেও আরবেলোয়ার সেন্ট্রাল ব্যাকলাইন কোনো ভুল করেনি। আরবেলোয়া শেষ মুহূর্তে স্মিথ রো এবং মুনিজকে নামিয়ে কাউন্টার অ্যাটাকের ভয় দেখিয়ে লিভারপুলের ফুলব্যাকদের একবারে ওপরে ওঠাকে প্রতিহত করেন।

ইরাওলার নতুন লিভারপুল ট্যাকটিকালি ম্যাচে আধিপত্য দেখালেও আরবেলোয়ার সুসংগঠিত ডিফেন্সিভ স্ট্রাকচার ভেঙে তিন পয়েন্ট ছিনিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়। ফলাফলস্বরূপ, নতুন ফুলহ্যাম কোচ হিসেবে আরবেলোয়া অ্যানফিল্ডের কঠিন ম্যাচ থেকেই মৌসুমে তাঁর দলের প্রথম পয়েন্ট নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন।










