ডট বলের পাহাড় ও বাউন্ডারির খরায় একই বৃত্তেই হোঁচট বাংলাদেশের!

ভারতের বিপক্ষে ২৬ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় মাত্র ৩টি, দুই দলের সামর্থ্যের পার্থক্যটা এই এক লাইনেই বোঝা যায়, আর দশ দিনের ব্যবধানে দুটো সেমিফাইনালেই সেই পার্থক্য আবার দেখা গেল, এশিয়া কাপে হার ৪০ রানে, এশিয়ান গেমসে ১১৪ রানে।

ভারতের বিপক্ষে ২৬ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় মাত্র ৩টি, দুই দলের সামর্থ্যের পার্থক্যটা এই এক লাইনেই বোঝা যায়, আর দশ দিনের ব্যবধানে দুটো সেমিফাইনালেই সেই পার্থক্য আবার দেখা গেল, এশিয়া কাপে হার ৪০ রানে, এশিয়ান গেমসে ১১৪ রানে।

এশিয়ান গেমসে  ভারত ২০ ওভারে তুলেছে ১৯৫ রান ৪ উইকেটে, শেফালি ভার্মা ৪৯ বলে অপরাজিত ১০০ করেছেন, জবাবে বাংলাদেশ ১৫.৪ ওভারে ৮১ রানে অলআউট। বাংলাদেশ ৯৪ বল খেলে ৬১টিতে রান করতে পারেনি, ৫১টি  ডট বল আর ১০টি উইকেট, মানে প্রায় প্রতি তিন বলের দুটিতে কিছুই হয়নি। ভারত ১২০ বলে ডট দিয়েছে ৩৫টি, ৩ টি উইকেট সহ।  বাংলাদেশ বাউন্ডারি মেরেছে ১৩টি,যার মধ্যে  ১২টা চার আর একটা ছয়, আর ভারত বাউন্ডারি মেরেছে ২৬টি, ১৪টা চার আর ১২টা ছয়, যার ৯টা ছয়ই শেফালির। ভারতের ২৬ বাউন্ডারি থেকে এসেছে ১২৮ রান, বাংলাদেশের ১৩টি থেকে ৫৪।

দশ দিন আগে দুবাইয়ে এশিয়া কাপ সেমিফাইনালেও গল্পটা প্রায় একই ছিল। ভারত করেছিল ১৪৯ রান ৬ উইকেটে  বাংলাদেশ ১০৯ রান ৭ উইকেট হারিয়ে।  সেদিন বাংলাদেশ ১২০ বলের ৬৪টি বলেই রান করতে পারেনি, বাউন্ডারি এসেছিল ১৩টি, ১১টা চার আর ২টা ছয়। ভারতও ধীর উইকেটে ৫৫টি ডট খেলেছে, কিন্তু ওরা বাউন্ডারি মেরেছে ১৮টি, ৯টা চার আর ৯টা ছয়, ১৪৯ রানের ৯০ রানই এসেছে ওখান থেকে। ডট দুই দলই খেলেছে, তফাত হয়েছে ডটের পর কে কী করেছে তাতে।

এই ম্যাচে সেই তফাত সবচেয়ে ভালো ধরা পড়ে সিঙ্গেল-ডাবলে। ভারতের ব্যাটাররা ৫৯ বলে এক-দুই রান নিয়ে স্ট্রাইক ঘুরিয়েছে, প্রায় প্রতি দুই বলে একবার, আর বাংলাদেশ ৯৪ বলে সেটা করেছে মাত্র ২০ বার। ভালো বল পেলে ডট হবেই, কিন্তু ভালো বল না পেলেও যদি সিঙ্গেল না আসে, তাহলে একটা ডটের ওপর আরেকটা ডট জমে চাপ বাড়তে থাকে, আর শেষে সেই চাপেই উইকেট চলে যায়। পাওয়ারপ্লে শেষে বাংলাদেশ ছিল ৩৯ রান ৩ উইকেটে, আর ভারত ৭২ রান এক উইকেটে।যেখানে টি টুয়েন্টি ম্যাচের মুল টেম্পো টা নির্ধারন হয়ে যায় পাওয়ার প্লেতেই।

টি-টোয়েন্টিতে ডট বল সবাই খেলে, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ডও খেলে, কিন্তু ওরা ডটের পর আগ্রাসী হিটিংয়ে বাউন্ডারি আনতে পারে বলে যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচ নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নেয়। বাংলাদেশ বারবার ঠিক এই জায়গাতেই আটকে যাচ্ছে, ডট জমছে, বাউন্ডারি আসছে না, স্ট্রাইকও ঘুরছে না, ফলে প্রেসার নিয়ে ব্যাটসম্যান মারতে চাইছে বা বোলারের ফাঁদে পা দিচ্ছে এবং আউট হচ্ছে আর ম্যাচ হাতছাড়া হচ্ছে।

ভারত কিংবা যে কোন বড় দলের সঙ্গেই খেলতে হলে ম্যাচ বুঝে খেলতে হবে , সিচুয়েশন বুঝে আগ্রাসী হতে হবে ,বাউন্ডারি মারার সুযোগ না এলে স্ট্রাইক রোটেট করতে হবে, খেলার এই ধরন টা না পাল্টালে সেই একই বৃত্তে থাকবে ফলাফল, যে কোন বড় মঞ্চের সেমি ফাইনাল বা ফাইনালে গিয়ে থেমে যেতে হবে বার বার।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link