বাংলাদেশের বিপক্ষে রশিদ খানের উইকেট এখন ৩৯টি, যা এই দলের বিপক্ষে ওয়ানডেতে যেকোনো বোলারের সর্বোচ্চ। রেকর্ডটা যে এমনি আসেনি, বুধবার শারজায় সেটা আরেকবার বোঝা গেল। যদিও শুরুর স্পেলটা তাঁর কাটল বিরক্তিতে।
প্রথম পাঁচ ওভারে ২০ রান দিয়ে উইকেট শূন্য। অথচ ইয়ামিন আর ওমরজাই শুরুতেই ধস নামিয়ে দিয়েছেন, নবী আর বিলাল সামিও সাফল্যের দিকে এগোচ্ছেন। গুগলি দিলে সাইফ হাসান ধরতে পারছেন না, কিন্তু ইনসাইড এজে বেঁচে যাচ্ছেন। এলবিডব্লিউর আপিল রিভিউতে গিয়েও টেকেনি। সম্ভবত পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশকে একশর নিচেই গুটিয়ে দেওয়ার, কিন্তু ইমন আর সাইফ সেটা হতে দিচ্ছিলেন না।
ধৈর্যের বাঁধটা ভাঙল ২২তম ওভারে। সাইফের ড্রাইভ ফিরে এল রশিদের হাতেই, বলটা ধরেই তিনি স্টাম্প লক্ষ্য করে ছুড়ে মারলেন, গুরবাজ কোনোমতে সামলালেন বল টা ধরে, কিন্তু সেই আগ্রাসনের শাস্তি টা পেলেন পরের বলে, ফুলটস দিয়েছিলেন সাইফ সেটা তুলে পাঠালেন মিডউইকেটের গ্যালারিতে।

এরপর অধিনায়ক রশিদ কে বিশ্রামে পাঠিয়ে অন্য বোলারদের আনলেন। মাঠের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে রশিদ হয়তো তখন পরের স্পেলটাই সাজাচ্ছিলেন।
ফিরলেন ৩৫তম ওভারে, এসেই ইমনকে প্রায় বোল্ড করে ফেললেন। বল অফ স্টাম্প ছুঁয়ে বেরিয়ে গেল, রশিদ মুচকি হেসে মাথা নাড়লেন। সেই হাসিতেই যেন আগামী কয়েক ওভারের আভাস ছিল। গুগলিতে শরিফুল ইসলামকে বোল্ড করলেন, এরপর ইমনকে এলবিডব্লিউ করলেন। ৯৬ বলে ৭০ রান করে যিনি একাই বাংলাদেশকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন, রিভিউ নিয়েও তাঁকে বাঁচানো গেল না, বল–ট্র্যাকিংয়ে তিনটা লাল। একটু পরেই আলিস আল ইসলাম স্লিপে নবীর তালুবন্দি হলেন, আর মুস্তাফিজকে দ্রুত গতির একটা ফ্ল্যাট বলে বোল্ড করে ইনিংস শেষ করলেন রশিদ। বাংলাদেশ গুটিয়ে গেল ১৬০ রানে, রশিদের ঝুলিতে ৪ উইকেট।
আগের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও বল হাতে এভাবেই ধস নামিয়েছিলেন, আফগানিস্তান জিতেছিল ১৫৮ রানের বড় ব্যবধানে। রশিদ খানের ব্যাপারটাই এমন। উইকেট না পেলে তিনি রেগে যান, আর রাগ পড়ে গেলে প্রতিপক্ষকে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ দেন না।











