দ্যা মাইটি অজিরা এভাবে মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়বে, এটা ভাবা কঠিন ছিল। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসে আরও একটা কালো দিন যোগ হলো সেন্ট জর্জেস পার্কে। ২১ বছর পর ফলোঅনে পড়ে ইনিংস ব্যবধানে হার, আর সেটাও এমন এক ম্যাচে, যেখানে বৃষ্টিতে প্রায় ১৩৫ ওভারের খেলাই হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকা জিতেছে ইনিংস ও ৩১ রানে, সিরিজও এখন ১–১ সমতায়।
ডারবানে প্রথম টেস্ট হারার পর যে দলটা পিছিয়ে ছিল, তারা এভাবে ঘুরে দাঁড়াবে সেটা হয়তো তাদের সমর্থকেরাও ভাবেননি। বৃষ্টিতে প্রায় ১৩৫ ওভারের খেলা হয়নি, সবাই ড্রয়ের কথাই ভাবছিল। সেখান থেকে প্রোটিয়ারা ম্যাচটা ছিনিয়ে নিল।
টস জিতে অস্ট্রেলিয়া আগে বোলিং নেয়, আর শুরুটা তাদের পক্ষেই যাচ্ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা ৪০ রানে ৪ উইকেট হারায়, ১১০ রানে গিয়ে দাঁড়ায় ৬ উইকেটে। তখন ম্যাচের চেহারা দেখে কেউ বলত না যে দলটা সাড়ে চারশোর কাছাকাছি যাবে।
কিন্তু চাপের মুখে দক্ষিণ আফ্রিকা ভেঙে পড়েনি, মাথা ঠান্ডা রেখে লড়াইটা চালিয়ে গেছে। সপ্তম আর অষ্টম উইকেটে দুটো বড় জুটি হলো, প্রথমটা ১৩২ রানের, পরেরটা ১৮৩ রানের। ছয় উইকেট পড়ে যাওয়া দল শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ৪২৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করল। অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা প্রায় ১২৭ ওভার বল করেও লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের থামাতে পারল না, ম্যাচটা আসলে এখান থেকেই তাদের হাত থেকে চলে গিয়েছিল।

তারপর এলো সেই ইনিংস, যেটা অস্ট্রেলিয়ার সমর্থকেরা সহজে ভুলতে পারবেন না। ৪২.৩ ওভারে মাত্র ৯৯ রানে অল আউট। দলের সর্বোচ্চ রান ২৮, তাও খেলতে হয়েছে ৮৮ বল। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা শুরু থেকেই লাইন লেংথে এমন চাপ ধরে রেখেছিল যে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা একবারও স্বস্তিতে খেলতে পারেননি। ৬৫ রানে ৫ উইকেট থেকে এক ধাক্কায় ৬ উইকেট হয়ে গেল। যে দলকে সবাই অজি বলে সমীহ করে, তারা টেস্টে একশো রানও করতে পারল না। ৩২৬ রানে পিছিয়ে থেকে ফলোঅনে পড়াটা তাই ছিল অনিবার্য।
ফলোঅনে নেমে অস্ট্রেলিয়া অন্তত লড়াইটা করেছিল। হেডের সেঞ্চুরি আর বোলান্ডের ধৈর্যের ইনিংসে ম্যাচটা অনেকক্ষণ টেনে নেওয়া গেল। কিন্তু ২০৯ রানে পঞ্চম উইকেট পড়ার পর আর কেউ দাঁড়াতে পারল না। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা একের পর এক উইকেট তুলে নিলেন, বাকি পাঁচ উইকেট গেল মাত্র ৮৬ রানে। শেষ উইকেটে হ্যাজলউডকে ফিরিয়ে দিলেন ইয়ানসেন, আর মাঠের ভেতরে বাইরে শুরু হলো উল্লাস।
দুই ইনিংস মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়া করল ৩৯৪ রান, যা দক্ষিণ আফ্রিকার এক ইনিংসের চেয়েও ৩১ রান কম। দুবার ব্যাট করেও যে রানটা ছোঁয়া গেল না, সেটাই পুরো ম্যাচের সবচেয়ে বড় কথা।

ফলোঅনে পড়ে হারের এমন তিক্ত স্মৃতি অস্ট্রেলিয়ার ২০০৫ সালের পর আর ছিল না। ২০১৯ সালে ভারতের বিপক্ষে একবার ফলোঅনে পড়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেবার বৃষ্টি এসে ম্যাচ বাঁচিয়ে দিয়েছিল। এবার কোনো বৃষ্টি তাদের রক্ষা করেনি।
ম্যাচের অনেকটুকু সময় বৃষ্টিতে ধুয়ে গেছে, তবু যে সময়টুকু খেলা হলো, তার প্রতিটা মুহূর্ত কাজে লাগিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ব্যাটিংয়ে ধস নামার পর ঘুরে দাঁড়ানো, তারপর বোলিংয়ে পুরো দলের এক আক্রমণ, এভাবেই অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে ইনিংসে হারানো যায়।
এই জয় দক্ষিণ আফ্রিকার স্মরণীয় জয়ের তালিকায় জায়গা করে নেবে। আর ড্রয়ের আশায় বসে থাকা অস্ট্রেলিয়া শেষ বিকেলে ঘরে ফিরল ইনিংস হার নিয়ে। প্রথম টেস্টের পর এমন ফলাফল তারা হয়তো কল্পনাতেও ভাবেনি।











