শ্রীলঙ্কার এক্স ফ্যাক্টর শানাকা

এই ম্যাচে শ্রীলঙ্কার এক্স ফ্যাক্টর ছিলেন শানাকাই। ৪৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে হলে শুধু উইকেট ধরে রাখলেই চলত না, প্রয়োজন ছিল ইংল্যান্ডের বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে রান তোলার গতি বজায় রাখা।

৪৩০ রানের বিশাল লক্ষ্য। জয়ের জন্য ওভারপ্রতি ১০ রানের বেশি প্রয়োজন, এমন কঠিন সমীকরণ সামনে রেখে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন দাসুন শানাকা। ১৯০ রানে ৩ উইকেট হারানো শ্রীলঙ্কার হয়ে মাত্র ৫০ বলে ৯৭ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ইংল্যান্ডের বোলারদের চাপে ফেলে দেন তিনি।

আটটি ছক্কা ও ছয়টি চারে সাজানো তাঁর ইনিংসে বদলে যায় ম্যাচের চিত্রনাট্য। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র তিন রান দূরে থামলেও শানাকার বিস্ফোরক ব্যাটিং শ্রীলঙ্কার অবিশ্বাস্য রান তাড়ায় গড়ে দেয় বড় ভিত।

এই ইনিংসের মাহাত্ম্য শুধু রানসংখ্যায় নয়, শানাকার প্রত্যাবর্তনের প্রেক্ষাপটেও। ২০২৪ সালের পর আর ওয়ানডেতে দেখা যায়নি তাঁকে। দীর্ঘ বিরতি পেরিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ দিয়ে ফিরেছিলেন এই ফরম্যাটে।

১৮ বলে ২৮ রানের সেই ইনিংস ছিল প্রত্যাবর্তনের সূচনা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচেই নিজের চেনা আগ্রাসনে বুঝিয়ে দিলেন, বিরতি পড়েছিল খেলায়, সামর্থ্যে নয়।

ছয়টি চার ও আটটি ছক্কায় সাজানো শানাকার ইনিংসটির স্ট্রাইক রেট ১৯৪। বড় লক্ষ্য তাড়ার কঠিন সমীকরণে তাঁর দায়িত্ব ছিল রান তোলার গতি ধরে রাখা। তিনি ঠিক সেটাই করলেন।

শানাকা যখন ব্যাট করতে নামেন, তখন শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল ১৯০/৩। সে সময় প্রয়োজনীয় রান তোলার হার ছিল ওভারপ্রতি ১০.৫১। অর্থাৎ, জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে তাঁকে শুরু থেকেই বড় শট খেলতে হতো। নিজের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে সেই কঠিন সমীকরণে পাল্টা লড়াই শুরু করেন তিনি। শানাকা যখন আউট হন, তখন দলের সংগ্রহ ৩৬৩/৫। তাঁর বিদায়ের সময়ও প্রয়োজনীয় রান তোলার হার ছিল ওভারপ্রতি ১১.১৬৭।

এই ম্যাচে শ্রীলঙ্কার এক্স ফ্যাক্টর ছিলেন শানাকাই। ৪৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে হলে শুধু উইকেট ধরে রাখলেই চলত না, প্রয়োজন ছিল ইংল্যান্ডের বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে রান তোলার গতি বজায় রাখা।

শানাকা ঠিক সেই কাজটিই করেছেন। তাঁর আটটি ছক্কা ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণের ওপর চাপ বাড়িয়েছে, বদলে দিয়েছে ম্যাচের সমীকরণ। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র তিন রান দূরে থামলেও তাঁর ইনিংসের গুরুত্ব ছিল সবচেয়ে বেশি!

তবে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র তিন রান দূরে থেমে যাওয়া শানাকার এই ইনিংসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক বিরল পরিসংখ্যানও। ওয়ানডেতে একই ম্যাচে দুই সতীর্থের একই রানে নব্বইয়ের ঘরে আউট হওয়ার ঘটনা আগেও দেখা গেছে।

১৯৯০ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে জন রাইট ও অ্যান্ড্রু জোন্স দুজনেই ৯৩ রানে আউট হয়েছিলেন। ২০১৬ সালে শ্রীলঙ্কার নিরোশান ডিকওয়েলা ও কুশল মেন্ডিস দুজনেই আউট হন ৯৪ রানে। আর আজ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আভিষ্কা ফার্নান্দো ও দাসুন শানাকা দুজনেই থামলেন ৯৭ রানে।

মজার ব্যাপার হলো, এই তিনটি ঘটনাই ঘটেছে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে, আর প্রতিটিই ছিল বহুদলীয় টুর্নামেন্টের ম্যাচ। ১৯৯০-এর ৯৩, ২০১৬-এর ৯৪ পেরিয়ে এবার ৯৭। সংখ্যার এই মিল ক্রিকেটের পরিসংখ্যানে বিরল এক কাকতাল।

 

লেখক পরিচিতি

আল ওয়াসি তালুকদার

সাব এডিটর

Share via
Copy link