চোট তাকে থামিয়েছিল, হারিয়ে দিতে পারেনি। যে বোলারের বল ১৫৫ কিলোমিটার গতিতে ব্যাটসম্যানের দিকে ছুটে আসত, সেই মায়াঙ্ক যাদব আবারও ফিরেছেন নিজের সবচেয়ে ভয়ংকর রূপে।
আইপিএলে অভিষেকের পর থেকেই মায়াঙ্ক যাদব ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ঘণ্টায় ১৫৫ থেকে ১৫৬ কিলোমিটার গতির আগুনঝরা বোলিং আর ব্যাটসম্যানকে অস্বস্তিতে ফেলে দেওয়া অদ্ভুত বাউন্স—এই দুই অস্ত্রেই রাতারাতি তারকা হয়ে ওঠেন তিনি। সেই মৌসুমে আইপিএলের দ্রুতগতির তিনটি বলই ছিল মায়াঙ্কের।
সেই পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে ২০২৪ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় তার। অভিষেক সিরিজেই বুঝিয়ে দেন, কেন তাকে এতটা বিশেষ ভাবা হচ্ছে। তার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ছয়টি উইকেটই এসেছে ব্যাক অব লেন্থ কিংবা আরও ছোট লেন্থের ডেলিভারিতে। অর্থাৎ বাড়তি বাউন্সই তার সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

কিন্তু এরপরই শুরু হয় দুঃস্বপ্ন। একের পর এক চোট তাকে মাঠের বাইরে ছিটকে দেয়। দীর্ঘ সময় ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে হয়। ধীরে ধীরে আলোচনার বাইরে চলে যান ভারতের সবচেয়ে গতিময় এই পেসার।
অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফিরলেন তিনি। আর কী দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন! কামব্যাক ম্যাচেই ইনিংসের প্রথম বল, ঘণ্টায় ১৪৯ কিলোমিটার গতির দুর্দান্ত এক ডেলিভারি, অতিরিক্ত বাউন্সে ভুল করতে বাধ্য করলেন ব্রায়ান বেনেটকে। আম্পায়ার প্রথমে আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে উইকেট আদায় করে নেয় ভারত। প্রত্যাবর্তনের প্রথম বলেই উইকেট—এর চেয়ে স্বপ্নের শুরু আর কী হতে পারে!
আর আজ সেই প্রত্যাবর্তনের ধারাবাহিকতাই ধরে রাখলেন মায়াঙ্ক। চার ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন ২ উইকেট। এর মধ্যে ১৭টি বলই ছিল ডট। জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের কাছে তার গতি আর বাড়তি বাউন্স ছিল এক দুঃস্বপ্ন।

ভারতীয় ক্রিকেট বহুদিন ধরেই এমন একজন পেসারের অপেক্ষায় ছিল, যিনি শুধু গতিতে নয়, বাউন্স দিয়েও ব্যাটসম্যানকে কাঁপিয়ে দিতে পারেন। চোট যদি এবার তাকে আর না থামায়, তাহলে মায়াঙ্ক যাদব শুধু ভারতের নয়, বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে ভয়ংকর গতির বোলারদের একজন হয়ে উঠতে পারেন।
Share via:











