স্মিথের একক লড়াইয়ে টিকে থাকল অস্ট্রেলিয়া!

তানজিদ তামিমের একটা মুহূর্তের ভুলেই কি লেখা হয়ে গেল স্মিথের এই একক লড়াইয়ের গল্প

তানজিদ হাসান তামিমের হাত থেকে যখন স্লিপে ক্যাচটা ফসকে গেল, স্টিভেন স্মিথের রান তখনও দুই অতিক্রম করেনি। ফিফথ স্টাম্প লাইনে শর্ট অব লেংথ ডেলিভারিতে ব্যাট চালিয়েছিলেন, বল  আউটসাইড-এজ হয়ে উড়ে গিয়েছিল তামিমের দিকে, দুই হাতেই আঁকড়ে ধরেছিলেন বল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে ফসকে গেল সেই ক্যাচ। ডারউইনের রোদে সেই একটা মুহূর্তই যেন লিখে দিল দিনের গল্পের মোড়।

জীবন ফিরে পাওয়া স্মিথ তারপর যেন অন্য এক মানুষ হয়ে উঠলেন। কিছুক্ষণ পরই কট-বিহাইন্ডের জোরালো আবেদন উঠল তার বিরুদ্ধে, বাংলাদেশ এতটাই নিশ্চিত ছিল যে রিভিউ নিতে দেরি করেনি, কিন্তু আল্ট্রা-এজে কোনো স্পাইক ধরা পড়ল না। প্রযুক্তি আরেকবার পাশে দাঁড়াল তার, আর বাংলাদেশের হাত থেকে খসে পড়ল আরেকটা রিভিউ। যেন নিয়তিই ঠিক করে রেখেছিল, আজকের দিনটা স্মিথের।

এরপর থেকে ধীরে ধীরে জমাট বাঁধতে থাকে তার ইনিংস। শুরুর সেই নড়বড়ে শাফলের অভ্যাস, অনিশ্চিত পায়ের কাজ পেছনে ফেলে একের পর এক বাউন্ডারি বের করলেন কভার আর পয়েন্টের ফাঁক গলিয়ে। সঙ্গীরা আসা-যাওয়া করলেন উইকেটের ওপাশে, কেউ টিকলেন না বেশিক্ষণ, কিন্তু স্মিথ রয়ে গেলেন অবিচল, যেন একাই কাঁধে তুলে নিয়েছেন গোটা ইনিংসের ভার। ৩৯তম ওভারে পূর্ণ করলেন পঞ্চাশ, টেস্ট ক্যারিয়ারের পঁচিশতম ফিফটি, দুই রানে জীবন পাওয়ার পর যে ইনিংস আর পেছন ফিরে তাকায়নি।

শেষটা এলো নাটকীয়ভাবেই।  হাসান মাহমুদের শর্ট বলে চার্জ করতে গিয়ে টপ-এজ হলো ব্যাট, বল উঠে গেল আকাশে, লিটন দাস স্টাম্পের পেছন থেকে সরে গিয়ে নিলেন সহজ ক্যাচ। ১০৯ বলে ৭১ রানের ইনিংস থামল সাত চার আর এক ছক্কায় সাজানো, কিন্তু তার আগে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের মেরুদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন তিন ঘণ্টারও বেশি সময়।

তানজিদ তামিমের একটা মুহূর্তের ভুলেই কি লেখা হয়ে গেল স্মিথের এই একক লড়াইয়ের গল্প?

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link