হার্দিকদের গার্লফ্রেন্ড নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তে বিসিসিআই!

এসব নারীরা ক্রিকেটারদের সাথে একসাথে হোটেলে থাকার পাশাপাশি টিম বাসেও ভ্রমণ করেন।

ভারতীয় ক্রিকেটে গ্ল্যামার এবং খেলা সব সময়ই হাত ধরাধরি করে চলে আসছে বহু বছর ধরেই। চলমান আইপিএলে ক্রিকেটারদের অনেকের গার্লফ্রেন্ডের হোটেল ও মাঠে উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। যা নিয়ে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই) বেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

বিসিসিআইয়ের নিয়ম আনুসারে ক্রিকেটারেরা তাঁদের স্ত্রী ও পরিবারকে সাথে রাখতে পারবেন। কিন্তু, হার্দিক পান্ডিয়া, ইশান কিষাণ, যশস্বী জয়সয়ালদের অনেককেই নিজের বান্ধবীর সাথে একসসাথে দেখা যায়। এরা কেউ তাঁদের আইনত স্ত্রী নন। মানে, তাঁদের সম্পর্কের কোনো সামাজিক স্বীকৃতি নেই।

ক্রিকেটারদের বান্ধবীদের অনেককেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা সময়ে বিভিন্ন বেটিং সাইটের বিজ্ঞাপন করতে দেখা গেছে। যা বিসিসিআই দেখছে আশংকার চোখে। এসব নারীরা ক্রিকেটারদের সাথে একসাথে হোটেলে থাকার পাশাপাশি টিম বাসেও ভ্রমণ করেন।

দৈনিক জাগরণ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ভারতীয় বোর্ড এই বিষয়ে উদ্বিগ্ন। ক্রিকেট যেখানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে, সেখানে এ ধরনের সম্পর্ক বোর্ডের জন্য চিন্তার কারণ। বান্ধবীদের উপস্থিতিকে দলের সংহতি নষ্ট করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ক্রিকেতারদের অনেকীর বান্ধবীই বর্তমানে বড় মাপের ‘সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার’। বোর্ডের আশঙ্কা, তাঁদের মাধ্যমে দলের কৌশল বা কোনো স্পর্শকাতর তথ্য অনিচ্ছাকৃতভাবে জনসমক্ষে চলে আসতে পারে। যা ভারতীয় ক্রিকেটের বিদ্যমান ভাবুমূর্তি নষ্ট করে ফেলতে পারে।

বিসিসিআই স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের নীতিমালায় কেবল ‘স্ত্রী ও পরিবার’ শব্দগুলো অন্তর্ভুক্ত, ‘অফিসিয়াল গার্লফ্রেন্ড’ বলে কিছু নেই। কিন্তু, এরপরেও কোনোভাবে ক্রিকেটাররা নিজেদের বান্ধবীদের সাথে রাখার অনুমতিপত্র বের করেছেন।

এই বিষয়ের সম্ভাব্য ভয়াবহতাকে মাথায় রেখে বিসিসিআই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে হাঁটতে যাচ্ছে। এজন্য, নিজেদের আগামী সভায় তারা নতুন একতি নির্দেশনা জারি করতে যাচ্ছে যেখানে বান্ধবীদের সাথে রাখার বিষয় বাধাগ্রস্থ হবে।

আইপিএল ফ্র্যাঞ্জাইজি লিগ হলেও বিসিসিআই এর জন্য নানা নিয়ম প্রণয়ন করে থাকে। লিগের উন্নতির স্বার্থেই যা সকল দলগুলোকে মেনে চলতে হয়। আর সাম্প্রতিক এই বান্ধবী ইস্যুকে ঘিরে দেওয়া নির্দেশনা কেবল আইপিএল নয়, বরং, মেনে চলতে হবে জাতীয় দলের খেলার সময়েও।

একজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত জীবন অবশ্যই তাঁর নিজস্ব অধিকার, কিন্তু যখন সেটি দলের শৃঙ্খলা বা দেশের সম্মানের ওপর প্রভাব ফেলে, তখন লাগাম টানা জরুরি হয়ে পড়ে। বিসিসিআই যেন তাই পেশাদারিত্ব টিকিয়ে রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

Share via
Copy link