আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় স্টোকসের!

তিনি মাঠে থাকবেন না ঠিকই, তবে ইংল্যান্ড দলটার নাম যতবারই উচ্চারিত হবে, ততবারই স্মৃতিতে ভেসে উঠবে ‘বেনজামিন এন্ড্রু স্টোকস’ নামটা।

ম্যাচের মধ্যে বোলিং করছিলেন, এরই মাঝে ধারাভাষ্য কক্ষ থেকে জানা গেল, এই ম্যাচের পর কখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেখা যাবে না তাঁকে। সমস্ত জীবনের মতো অবসরের ঘোষণাও রোমাঞ্চকরভাবেই দিলেন বেন স্টোকস। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলতি তৃতীয় টেস্ট দিয়েই নিজের ১৫ বছরের ক্যারিয়ারের ইতি টানছেন এই অলরাউন্ডার।

ইংলিশ ক্রিকেটের ক্রান্তিলগ্নে বেন স্টোকস আর কোনো সাধারণ ক্রিকেটারের নামের মতো না। তিনি ছিলেন এক রূপান্তরের জাদুকর। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের সেই মহাকাব্যিক ফাইনালে তাঁর অবিস্মরণীয় ৮৪ রানের ইনিংস কিংবা হেডিংলি টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একাই ১৩৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে অসম্ভবকে সম্ভব করা—স্টোকস মানেই ছিল খাদের কিনারা থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে আনার গ্যারান্টি।

টেস্ট ক্রিকেটের আভিজাত্যে তাঁর নাম আজীবন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে স্যার গারফিল্ড সোবার্স এবং জ্যাক ক্যালিসের মতো কিংবদন্তিদের পাশে। টেস্টে ৭,২৪৩ রান এবং ২৫১ উইকেটের এক অবিশ্বাস্য ডাবল অর্জনের পাশাপাশি টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১৩৬টি ছক্কা মারার অনন্য রেকর্ডও রয়েছে এই ইংলিশ অধিনায়কের দখলে।

২০২২ সালে যখন টেস্ট দলের দায়িত্ব নেন, তখন কোচ ব্র্যান্ডন ম্যাককালামকে সাথে নিয়ে ক্রিকেটের ব্যাকরণ বদলে দেওয়া ‘বাজবল’ বিপ্লবের জন্ম দেন স্টোকস। তাঁর আক্রমণাত্মক ও নির্ভীক অধিনায়কত্বে প্রথম ১১ টেস্টের ১০টিতেই জয় পায় ইংল্যান্ড। বিগত ৪৫ বছরের মধ্যে দিয়ে সাদা পোশাকে নিজেদের সেরা সময় কাটাচ্ছে দেশটি। 

স্টোকস শুধু যে সাদা পোশাকেই অনন্য এক অলরাউন্ডার তা কিন্তু নয়। ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ জেতানোর সেই কীর্তি বাদ দিলেও, ১২ বছরের অপেক্ষার পর ২০২২ সালে ইংল্যান্ডকে জেতান ২০ ওভারের বিশ্বকাপ। পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনালে হয়েছিলেন ম্যাচসেরা। 

মাঠের বাইরে বিতর্ক, ইনজুরির নিষ্ঠুর আঘাত এবং বাবার মৃত্যুর শোকে ২০২১ সালে মানসিক অবসাদের কারণে ক্রিকেট থেকে বিরতি নিতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু প্রতিবারই তিনি মাঠে ফিরে এসেছেন এক অপরাজেয় ফিনিক্স পাখির মতো; এমনকি অবসর ঘোষণার ঠিক পরের বলেই উইকেট নিয়ে গ্যালারিকে আরও একবার স্তব্ধ করে দিয়েছেন।

স্টোকস হলেন বড় ম্যাচের পারফর্মার। দল যখন থাকে খুবই নাজুক অবস্থায়, তখনই যেন তাঁর রক্তে বইতে থাকে নিজের সেরাটা নিংড়ে দেওয়ার প্রেরণা। সাদা পোশাকে হোক কিংবা সাদা বলের ক্রিকেটে, ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে বেন স্টোকস কঠিনকে বারেবারে জয় করে গেছেন সাহসের সাথে লড়ে। 

এখন ক্রিকেটে দুরন্ত প্রতিভার অলরাউন্ডার খুব কম দেখা যায়। বেন স্টোকস ছিলেন সেই জায়গায় এক বিরল প্রজাতির ক্রিকেটার। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তাঁর দেওয়া বহু ম্যাচের স্মৃতি, ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে রয়ে যাবে আজন্মকাল ধরে। তিনি মাঠে থাকবেন না ঠিকই, তবে ইংল্যান্ড দলটার নাম যতবারই উচ্চারিত হবে, ততবারই স্মৃতিতে ভেসে উঠবে ‘বেনজামিন এন্ড্রু স্টোকস’ নামটা।

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

Share via
Copy link