প্রথম দিনটা জিম্বাবুয়ের!

এমন দিন বাংলাদেশ নিশ্চয় মনে রাখতে চাইবে না। এমন দুর্দশাগ্রস্ত, বিবর্ণ দিনের মুখোমুখি হওয়াটা নিতান্তই যেন এক অভিশাপ। হারারের উইকেটে ব্যাট হাতে শুরু থেকেই দিশেহারা ছিল বাংলাদেশ।

এমন দিন বাংলাদেশ নিশ্চয় মনে রাখতে চাইবে না। এমন দুর্দশাগ্রস্ত, বিবর্ণ দিনের মুখোমুখি হওয়াটা নিতান্তই যেন এক অভিশাপ। হারারের উইকেটে ব্যাট হাতে শুরু থেকেই দিশেহারা ছিল বাংলাদেশ। এরপর বল হাতেও প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারেনি সফরকারীরা। সব মিলিয়ে টেস্টের প্রথম দিনটি পুরোপুরি জিম্বাবুয়ের দখলেই থেকে গেল।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। নতুন বলের গতি আর অতিরিক্ত বাউন্সের সামনে একের পর এক ব্যাটার আত্মসমর্পণ করেন। মাত্র ৩৬ রানেই দুই ওপেনারকে হারায়। সেই ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন মুমিনুল হক ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজন মিলে ৭৪ রানের জুটি গড়ে ইনিংসে কিছুটা স্থিতি ফিরিয়ে আনেন। তবে ৬০ রানের ইনিংস খেলেই বিদায় বলেন তিনি। এরপরই শুরু হয় আসল বিপর্যয়।

অধিনায়ক নাজমুলও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১৯ রানেই থামে তাঁর চাকা। মুশফিকুর রহিম কিংবা অভিষিক্ত তাওহীদ হৃদয়ও ব্যর্থ হাল ধরতে। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ব্যাটিং অর্ডার। ১১৩ রানে দুই উইকেট থেকে গুটিয়ে যায় মাত্র ১৪০ রানে।

প্রথম ইনিংসে ছোট পুঁজি নিয়ে বল হাতে অলৌকিক কিছু করার প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের বোলারদের। কিন্তু শুরুটা সেখানেও আশাব্যঞ্জক হয়নি। ওপেনিং জুটিতেই জিম্বাবুয়ে তোলে ৮৯ রান। খালেদ আহমেদ ফেরান বেন কারানকে। ওটাই বাংলাদেশের একমাত্র প্রাপ্তি বলা চলে। আর কোনো বিপর্যয় না ঘটিয়ে জিম্বাবুয়ে তোলে ১৩৬ রান। চার রানে পিছিয়ে থেকে চালকের আসনেই যে তারা বসে আছে, সেটা বলাই বাহুল্য।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link