বিশ্বকাপের মঞ্চে অভিষেকেই ইতিহাস লিখল কেপ ভার্দে। ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রতে আটকে দিয়ে আটলান্টায় রীতিমতো চমক দেখাল আটলান্টিক মহাসাগরের ছোট্ট এই দ্বীপরাষ্ট্র। মাত্র ছয় লাখ মানুষের দেশটি প্রথমবার বিশ্বকাপে এসেই বুঝিয়ে দিল , তারা শুধু অংশ নিতে আসেনি।
ম্যাচজুড়ে বল দখলে স্পেন এগিয়ে ছিল ৬২–২৮ শতাংশে। পেদ্রি, রড্রি, ওয়ার্জাবালরা একের পর এক আক্রমণ গড়েছেন, ফেরান তোরেসের শট বারে লেগেছে, লামিন ইয়ামালকে শেষ দিকে মাঠে নামিয়েছেন কোচ তবু গোল আসেনি। কারণ একটাই — ভোজিনহা।
৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক আজ ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ৭৬ মিনিট পর্যন্তই ছয়টি সেভ করেছিলেন তিনি, ম্যাচ শেষে সেই সংখ্যা আরও বড়। তোরেসের শটের রিবাউন্ডে ওয়ার্জাবালের হেডার অবিশ্বাস্যভাবে টিপ করে বের করেছেন, লাপোর্তের কর্নার থেকে হেডার ঠেকিয়েছেন, দ্বিতীয়ার্ধে ফাবিয়ান রুইজের একাধিক প্রচেষ্টাও ব্যর্থ করেছেন। স্পেন প্রথমার্ধেই ১২টি শট নিয়েছিল — ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে এত শট নিয়েও গোল না করার রেকর্ড এটাই।

কেপ ভার্দে কিন্তু শুধু রক্ষণেই আটকে থাকেনি। জোভানে কাব্রাল ও লিভ্রামেন্টো কাউন্টারে বারবার স্পেনের ডিফেন্সে ভয় ধরিয়েছেন। ৮৯ মিনিটে গোলের দারুণ সুযোগও এসেছিল তাদের সামনে, গোল হলে সেটা হতো বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটন।
শেষ পর্যন্ত স্কোরলাইন ০–০। স্পেনের জন্য হতাশার, কেপ ভার্দের জন্য ঐতিহাসিক। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ইউরোপ চ্যাম্পিয়নকে থামিয়ে দেওয়া — এই স্মৃতি কেপ ভার্দের ফুটবলে চিরকাল থাকবে।












