৪০ বছরের গোলরক্ষকের সামনে অসহায় স্পেন

গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে ৪০ বছর বয়সী এক মানুষ। সামনে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন - একের পর এক আক্রমণ, একের পর এক শট। কিন্তু গোলপোস্ট অক্ষত। নাম তার ভোজিনহা।

গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে ৪০ বছর বয়সী এক মানুষ। সামনে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন – একের পর এক আক্রমণ, একের পর এক শট। কিন্তু গোলপোস্ট অক্ষত। নাম তার ভোজিনহা।

অথচ এই নামটা তার আসল নাম নয়। ১৯৮৬ সালে কেপ ভার্দের মিন্দেলোতে জন্মের সময় তাকে ডাকা হতো জসিমার হোসে এভোরা দিয়াস নামে – সেই বছরের মেক্সিকো বিশ্বকাপে চমক দেখানো ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার জসিমারের নামে, সেনাবাহিনীতে কর্মরত বাবার দেওয়া নাম। দাদা-দাদির কাছে বেড়ে ওঠা ছেলেটির ডাকনাম হয়ে যায় “ভোজিনহা” – বন্ধুদের দেওয়া আদুরে নাম, যা পরে হয়ে যায় তার পরিচয়।

উচ্চতার কারণে কিশোর বয়সে বাছাইয়ে বাদ পড়তেন, পেশাদার ফুটবলে আসতে লেগে যায় ২৫ বছর। অ্যাঙ্গোলা, মলদোভা, সাইপ্রাস, স্লোভাকিয়া ঘুরে এখন পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শাভেসে খেলেন। ২০১২ থেকে কেপ ভার্দের জার্সিতে ৮০-র বেশি ম্যাচ – কিন্তু বিশ্বকাপ আসেনি কখনো, কারণ দলই ওঠেনি কখনো। ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে এসেই মিলল সেই সুযোগ।

 

আর সেই অধ্যায়েই লিখলেন রূপকথা। আটলান্টায় বিশ্বকাপ অভিষেকে কেপ ভার্দে নামল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি গড় বয়সের (৩১ বছর ২৬ দিন) একাদশ নিয়ে। পুরো ম্যাচে বল দখলে স্পেনের আধিপত্য ছিল, তারা নিয়েছে ২৭টি শট, যার ৭টি ছিল লক্ষ্যে – কিন্তু একটিও জালে জড়াতে পারেনি।

৩৯ মিনিটে তোরেসের শট ক্রসবারে লেগে ফেরে, ফিরতি বলে ওইয়ারসাবালের গোলমুখী হেডার অসাধারণ দক্ষতায় হাত দিয়ে সরিয়ে দেন ভোজিনহা। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে লাপোর্তের জোরালো হেডারও নিচু হয়ে ডাইভ দিয়ে রুখে দেন তিনি। শেষ দিকে কেপ ভার্দে নিজেরাও প্রথম কর্নার পেয়ে প্রায় চমক দেখিয়ে ফেলেছিল।

ফলাফল – গোলশূন্য ড্র, যাকে বলা হচ্ছে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চমকগুলোর একটি। যে নাম জন্ম নিয়েছিল এক বিশ্বকাপ নায়কের অনুপ্রেরণায়, চার দশক পর সেই নামই হয়ে গেল আরেক বিশ্বকাপ নায়কের গল্প।

 

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link