বিপিএলকে বাঁচাতে পারবেন কি তামিম?

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) তামিম ইকবাল দায়সারা ভাবে আর আয়োজন করতে চান না। বোর্ড সভাপতি হিসেবে নিজের সুনাম নিয়ে বেজায় সিরিয়াস তিনি। এমন কিছু করতে চান, যা হয়ে থাকবে দৃষ্টান্ত। এখানেই আসল চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) তামিম ইকবাল দায়সারা ভাবে আর আয়োজন করতে চান না। বোর্ড সভাপতি হিসেবে নিজের সুনাম নিয়ে বেজায় সিরিয়াস তিনি। এমন কিছু করতে চান, যা হয়ে থাকবে দৃষ্টান্ত। এখানেই আসল চ্যালেঞ্জ। তবে সেই চ্যালেঞ্জ জেতার মতো অস্ত্রও তামিমের হাতে আছে। অভিজ্ঞতা, সুযোগ, বিশ্বের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটকে খুব কাছ থেকে দেখার সামর্থ্য সবই তার কাছে পাওয়া যাবে। এটাই মূলত কাজে লাগাতে হবে বিপিএলে। সেটা করতে পারলে নিশ্চয় পাকে ডুবে থাকা বিপিএলকে টেনে তুলতে পারবেন তিনি। এটা পারা উচিত।

আইসিসির ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ কমিটির চেয়ারম্যান তিনি। বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ নিয়ে কাজ করা, তাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন, নীতিগত কাঠামো ঠিক রাখা এসব নিয়েই এখন তামিমের কারবার। ফলে বিশ্বের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলো কীভাবে চলছে, কোথায় তারা সফল হচ্ছে, কোথায় হোঁচট খাচ্ছে সবকিছু খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন তামিম। খুঁটিনাটি জানার এই সুযোগটাই হতে পারে বিপিএল বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় রসদ।

অন্য লিগের সাফল্য থেকে শিক্ষা নেওয়া, তাদের ভুলগুলো এড়িয়ে চলা আর বিপিএলের জন্য কার্যকর একটা কাঠামো দাঁড় করানো তামিম চাইলে এখন অনেক কিছুই করতে পারেন। এতদিন যে অভিজ্ঞতাগুলো শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন ছিল, এবার সেগুলোই কাজে লাগাতে হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটে।  বিপিএলকে ভালো পর্যায়ে নিয়ে যেতে এই অভিজ্ঞতার বিকল্প নেই।

শুধু নীতিনির্ধারক হিসেবে নয়, ক্রিকেটার হিসেবেও তামিমের অভিজ্ঞতার ঝুলি বেশ সমৃদ্ধ। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলেছেন তিনি। পাকিস্তান সুপার লিগ, ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ, বিভিন্ন লিগের মাঠ, ড্রেসিংরুম, পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা খুব কাছ থেকে দেখেছেন। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে(আইপিএল) খেলার সুযোগ না পেলেও সেখানে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা আছে তাঁর।

অর্থাৎ একটা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ কীভাবে বড় হয়ে ওঠে, কোন জায়গায় বিনিয়োগ করতে হয়, কীভাবে ক্রিকেটার-ফ্র্যাঞ্চাইজি-দর্শক সব পক্ষকে একই সুতোয় বাঁধতে হয়, সেটা তামিমের অজানা নয়। মাঠের ক্রিকেটার তামিম আর এখনকার নীতিনির্ধারক তামিম, দুই অভিজ্ঞতা যদি এক জায়গায় মেলে, বিপিএলকে নতুন চেহারা দেওয়ার সুযোগটা তখন তাঁর হাতেই।

বিপিএলের সঙ্গে বিতর্ক অনেকদিনের সঙ্গী। এমনকি অনেকে ঠাট্টা করে বিপিএলের নাম দিয়েছেন ‘বিতর্ক প্রিমিয়ার লিগ’। আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন, ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে টানাপোড়েন, ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি, কোনো না কোনো বিতর্ক যেন প্রতি আসরেই এসে দাঁড়ায়। অথচ বিপিএলের সম্ভাবনা আকাশছোঁয়া। প্রয়োজন ছিল শুধু সঠিক পরিকল্পনা, পেশাদারিত্ব আর দূরদর্শী নেতৃত্বের।

এই জায়গাতেই তামিমকে নিজের ছাপ রাখতে হবে। বিপিএলকে শুধু টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট হিসেবে নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্র্যান্ড হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। এমন একটি লিগ, যেখানে থাকবে পেশাদারিত্ব,  ধারাবাহিকতা, আন্তর্জাতিক মানের আয়োজন। আর সবচেয়ে বড় কথা, থাকবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রতি মানুষের আস্থা।

তামিমের সামনে তাই চ্যালেঞ্জটা বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা অনিয়ম, অগোছালো ব্যবস্থাপনা আর বিতর্কের সংস্কৃতি থেকে বিপিএলকে বের করে আনা। নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে মন্দটাকে সরিয়ে ভালোকে প্রতিষ্ঠা করতে পারাটাই হবে তামিমের আসল পরীক্ষা।দেখার বিষয়, বিশ্বের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে সঞ্চয় করা অভিজ্ঞতার কতটা তিনি কাজে লাগাতে পারেন। নিজের সুনামের জন্য যে লড়াইটা শুরু করেছেন, সেই লড়াইয়ে বিপিএলকে কতটা বদলে দিতে পারেন।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link