নামকরণ যখন খাবারে

নামের এই বৈচিত্রও আবার অনেক রকম। কিছু ক্রিকেটারের নামকরণ হয়েছে স্রেফ কোনো ভোজনযোগ্য খাবারের নামে। যদিও, বাবা-মা কি ভেবে সন্তানদের এই নাম রেখেছিলেন - তা জানা যায়নি।

বাইশ গজ যতটা বৈচিত্রময়, তাঁর চেয়েও বেশি বৈচিত্রময় এর চরিত্রগুলো। তবে, এর মাঝেও কিছু ক্রিকেটার আছেন যাদের আলাদা করা যায় স্রেফ নামের জন্য।

নামের এই বৈচিত্রও আবার অনেক রকম। কিছু ক্রিকেটারের নামকরণ হয়েছে স্রেফ কোনো ভোজনযোগ্য খাবারের নামে। যদিও, বাবা-মা কি ভেবে সন্তানদের এই নাম রেখেছিলেন – তা জানা যায়নি।

তেমনই কয়েকজনকে নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন।

  • গ্রাহাম অনিয়ন্স (ইংল্যান্ড)

অনিয়ন মানে হল পেয়াজ। ইংলিশ এই পেসার ২০০৯ সালে ক্যারিয়ারের শুরুর সময়টা খুব আলোচিত ছিলেন। সেই বছর আরো কয়েকজনের সাথে উইজডেনের বর্ষসেরা ক্রিকেটারেরও পুরস্কার পান। যদিও, পিঠের ইনজুরিতে ২০১১ সালের পর আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে পারেননি।

আর এই ইনজুরির জের ধরেই ২০২০ সালে তিনি সব রকম ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টানেন। মাত্র ১৩ টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও ১৯২ টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে থামেন তিনি।

  • ক্লাইভ রাইস (দক্ষিণ আফ্রিকা)

সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার মনে করা হয় তাঁকে। যদিও, ক্যারিয়ারের স্বর্ণালী সময়ে যখন ছিলেন, তখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকা ছিল নিষিদ্ধ। সেটা কাটে ১৯৯১ সালে। তখন ৪২ বছর বয়সে তিনটা ওয়ানডে খেলেন ভারতের বিপক্ষে। রাইসই ছিলেন প্রত্যাবর্তনের পর প্রোটিয়াদের প্রথম অধিনায়াক। রাইস অর্থ নিশ্চয়ই বলে দিতে হবে না।

কাউন্টিতে তিনি লম্বা সময় খেলেছেন নটিংহ্যাম্পশায়ারের হয়ে। অধিনায়কও ছিলেন। দু’বার কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ জেতেন অধিনায়ক হিসেবে। এর বাদে মজার ব্যাপার হল প্রথম শ্রেণিতে ২৬ হাজারের বেশি রান ও ৯৩০ টি উইকেট পাওয়া রাইস খেলেছেন স্কটল্যান্ডের হয়েও। ১৯৮১ সালে পান উইজডেনের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। ২০১৫ সালে ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

  • অ্যালান ল্যাম্ব (ইংল্যান্ড)

দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া অ্যালান ল্যাম্ব ৭৯ টি টেস্ট খেলেন ইংল্যান্ডের হয়ে। ল্যাম্ব অর্থ ভেড়া। নিজের জমানায় বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত ছিলেন। যদিও, ৩৬-এর ওপরে গড়ে তাঁর করা সাড়ে চার হাজারের ওপর টেস্ট রান দিয়ে ডানহাতি ব্যাটসম্যানের এই সামর্থ্যটা ঠিক বোঝা যায় না। তিনি ওয়ানডে খেলেন ১২২ টি। তাতে ৩৯-এর ওপর গড় নিয়ে করেন চার হাজারের ওপর রান। প্রথম শ্রেণিতে করেন ৩২ হাজারের ওপর নান।

তাঁর ক্যারিয়ারের বড় ব্যাপার হল ১৪ টি টেস্ট সেঞ্চুরির ছয়টিই আসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, মাত্র ২২ ম্যাচে। তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা ছিলেন জোয়েল গার্নার, ম্যালকম মার্শাল, কোর্টনি ওয়ালশ, কার্টলি অ্যামব্রোস কিংবা ইয়ান বিশপরা।

  • ফিল মাস্টার্ড (ইংল্যান্ড)

ইংলিশ এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানকে প্রায়ই অস্ট্রেলিয়ার স্বয়ং অ্যাডাম গিলক্রিস্টের সাথে তুলনা করা হত। যদিও, শেষ অবধি মাঝারি গোছের একটা ক্যারিয়ারই ছিল ফিল মাস্টার্ডের। ইনজুরি তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার বড় করতে দেয়নি। মাস্টার্ড মানে হল সরিষা।

মোটে ১০ ওয়ানডে আর দু’টি টি-টোয়েন্টি খেলেন তিনি। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) শুরুর দিকে একটা মৌসুম ছিলেন বরিশাল বার্নার্স দলে।

মজার ব্যাপার হল, মাস্টার্ড ক্রিকেটার না হয়ে ফুটবলারও হতে পারতেন। তিনি ১৩ বছর বয়স অবধি দু’বছর কাটান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। আর এরপর আরো দু’বছর ছিলেন মিডলসব্রোতে।

  • কোলা বার্গার (নামিবিয়া)

দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া এই নামিবিয়ান ক্রিকেটারের নামটা আসলে তালিকায় সবার আগে আসা উচিৎ। কারণ, তাঁর নামে একাধারে কোলাও আছে, বার্গারও আছে।

বাঁ-হাতি এই পেসার কখনোই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেননি। তবে, ৩০ টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে ১০৯ টি উইকেট ও এক হাফ সেঞ্চুরিতে ৬৪০ রান করেছেন। ক্যারিয়ারের ইতি টানেন সেই ২০১১ সালে।

  • শন পোলেক (দক্ষিণ আফ্রিকা)

তালিকায় এই নামটা দেখে একটু অবাক হচ্ছেন! অবাক হওয়ার কিছু নেই। পোলক হল সামুদ্রিক একটা মাছ। ইউরোপে এই মাছ দিয়ে দারুণ সব আইটেম রান্না হয়।

আর শন পোলককে নিয়ে আলাদা করে বলারই বা কি আছে। পুরোদস্তর ক্রিকেট পরিবারের এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার ১০৮ টি টেস্ট, ৩০৩ টি ওয়ানডে ও ১২ টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। সাত হাজারের ওপর রান ও প্রায় সাড়ে আটশ উইকেট দিয়ে তাঁকে দিব্যি প্রোটিয়াদের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার বলা যায়।

আরও পড়ুন

Leave A Reply

Your email address will not be published.