দ্য ফিউরিয়াস ফাইভ

লর্ডসে পাঁচ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন শাহাদাত। ঐতিহাসিক লর্ডসে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে পাঁচ উইকেট নিয়ে অনার্স বোর্ডে নাম লেখান তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওই টেস্টে ৯৮ রানে তিনি শিকার করেন ৫ উইকেট। অবশ্য সেই টেস্টেও জয়ের দেখা মিলেনি বাংলাদেশের। একমাত্র বাংলাদেশী পেসার হিসেবে টেস্টে তিনবার ফাইফার শিকার করেন শাহাদাত।

রঙিন পোশাকে দাপট দেখাতে পারলেও টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। লম্বা সময় ধরে টেস্ট খেললেও এই ফরম্যাটে নিজেদের সেরাটা দিতে পারেনি বাংলাদেশ। দেশে এবং দেশের বাইরে প্রতিনিয়ত সাদা পোশাকে প্রতিপক্ষের সামনে অসহায়ত্ব দেখাচ্ছেন সাকিব-তামিমরা। বোলিং বিভাগে স্পিনারদের অনেকে সফল হলেও পেসারদের পরিসংখ্যানটা খুব বেশি ভাল নয়।

টেস্ট ইতিহাসে বাংলাদেশের মাত্র ছয়জন পেসার পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে পেসাররা টেস্টে পাঁচ উইকেট পেয়েছেন মোট নয়বার। এর মধ্যে শাহাদাত হোসেন সর্বোচ্চ তিন ও রবিউল ইসলাম পেয়েছেন দু’বার। এই তালিকার সবশেষ সংযোজন খালেদ আহমেদ।

  • মঞ্জুরুল ইসলাম

২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বুলাওয়েতে প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে টেস্টে পাঁচ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন মঞ্জুরুল ইসলাম। ৩৫ ওভারে ৮১ রানের বিনিময়ে ক্যারিয়ার সেরা ৬ উইকেট নেন সাবেক এই পেসার।

মঞ্জুরুলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরেও ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ওই টেস্টে বিশাল ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের জার্সি গায়ে ১৭ টেস্টে ২৮ উইকেট শিকার করেছেন সাবেক এই পেসার।

  • শাহাদাত হোসেন রাজিব

২০০৬ সালে বগুড়ায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাটিতে দুর্দান্ত এক স্পেলে টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবার পাঁচ উইকেটের দেখা পান শাহাদাত হোসেন। অবশ্য ওই টেস্টে ১০ উইকেটে হেরে যায় বাংলাদেশ।

এর দুই বছর বাদে ২০০৮ সালে হোম অব ক্রিকেট খ্যাত মিরপুরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার ফাইফর শিকার করেন এই পেসার। মাত্র ২৭ রানে নেন ক্যারিয়ার সেরা ৬ উইকেট। পেসারদের মধ্যে বাংলাদেশের হয়ে এটি টেস্টে সেরা স্পেল।

এরপর ২০১০ সালে লর্ডসে পাঁচ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন শাহাদাত। ঐতিহাসিক লর্ডসে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে পাঁচ উইকেট নিয়ে অনার্স বোর্ডে নাম লেখান তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওই টেস্টে ৯৮ রানে তিনি শিকার করেন ৫ উইকেট। অবশ্য সেই টেস্টেও জয়ের দেখা মিলেনি বাংলাদেশের। একমাত্র বাংলাদেশী পেসার হিসেবে টেস্টে তিনবার ফাইফর শিকার করেন শাহাদাত।

  • রুবেল হোসেন

অভিষেকের পর নিজের খেলা পঞ্চম টেস্টেই ক্যারিয়ারে প্রথমবার পাঁচ উইকেট নেন রুবেল হোসেন। তৃতীয় বাংলাদেশী হিসেবে সাদা পোশাকে পাঁচ উইকেট নেন তিনি।

২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যামিল্টনে ১৬৬ রানে ৫ উইকেট নেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান খরচায় পাঁচ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথম বাংলাদেশী পেসার হিসেবে পাঁচ উইকেটের কীর্তি গড়েন রুবেল।

  • রবিউল ইসলাম

টেস্টে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় এক তারকা হিসেবে সুযোগ পেয়েছিলেন পেসার রবিউল ইসলাম। ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারেতে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭১ রানে ক্যারিয়ার সেরা ৬ উইকেট শিকার করেন তিনি। পরের টেস্টেই একই ভেন্যুতে প্রথম ইনিংসে আবারও শিকার করেন ফাইফর।

রবিউলের দুর্দান্ত বোলিংয়ে প্রথম টেস্টে না জিতলেও দ্বিতীয়টিতে বড় ব্যবধানে জয় পায় বাংলাদেশ। প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে পর পর দুই টেস্টে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন রবিউল।

  • এবাদত হোসেন

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবার টেস্ট জয়ের ঐতিহাসিক ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং করেন এবাদত হোসেন। ২০২২ সালের শুরুতে মাউন্ট মঙ্গানুইতে এবাদতের ৬ উইকেট শিকারে প্রথমবার নিউজিল্যান্ডের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট জয় করে বাংলাদেশ।

৪৬ রানে ৬ উইকেট নেন এবাদত। রুবেল হোসেনের পর নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশী পেসার হিসেবে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেন এবাদত।

  • খালেদ আহমেদ

সেন্ট লুসিয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ক্যারিয়ারে প্রথমবার টেস্টে পাঁচ উইকেট শিকার করেন খালেদ আহমেদ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানে ৫ উইকেট নেন এই পেসার।

ষষ্ঠ পেসার হিসেবে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন খালেদ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে নেন ফাইফার।

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...