বিশ্বকাপ এলেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল কিংবা ফ্রান্স। তবে ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল ও ধারাবাহিক দলগুলোর একটি জার্মানি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন (১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০ ও ২০১৪) দলটি খেলেছে আটটি ফাইনাল, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা রেকর্ড।
জার্মান ফুটবলের ইতিহাস সমৃদ্ধ হয়েছে অসংখ্য কিংবদন্তির হাতে। ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, গার্ড মুলার, লোথার ম্যাথাউস, অলিভার কান, ম্যানুয়েল নয়ার, মিরোস্লাভ ক্লোসা কিংবা থমাস মুলারের মতো তারকারা শুধু জার্মানির নয়, বিশ্ব ফুটবলেরই ইতিহাস গড়েছেন। বিশেষ করে ক্লোসার ১৬টি বিশ্বকাপ গোল এখনো টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড।

তবে আধুনিক ফুটবলে জার্মানির সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত নি:সন্দেহে ২০১৪ বিশ্বকাপ। ব্রাজিলের মাটিতে সেমিফাইনালে স্বাগতিকদের ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করে বিশ্বকে হতবাক করেছিল তারা। টনি ক্রুস, ফিলিপ লাম, ক্লোসা ও নয়ারদের নিয়ে গড়া সেই দলকে এখনও আধুনিক যুগের অন্যতম সেরা বিশ্বকাপজয়ী দল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে নিজেদের চতুর্থ শিরোপাও জিতে নেয় জার্মানি।
তবুও এবার বিশ্বকাপের আগে তাদের নিয়ে খুব বেশি মাতামাতি নেই। কারণ ২০১৮ ও ২০২২—টানা দুই বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছে জার্মানদের। তবে নতুন কোচ জুলিয়ান ন্যাগেলসমানের অধীনে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে দলটি।

জামাল মুসিয়ালা, ফ্লোরিয়ান ভির্টজ, জশুয়া কিমিখ ও কাই হাভার্টজদের নিয়ে গড়া বর্তমান স্কোয়াডকে অনেকেই সম্ভাবনাময় মনে করছেন। হয়তো তারা সবচেয়ে বড় ফেভারিট নয়, কিন্তু বিশ্বকাপের ইতিহাস বলে—জার্মানিকে কখনোই হিসাবের বাইরে রাখা যায় না।











