মিরপুরে পুরোদমে চলছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতি। তবে এর মধ্যেই উঁকি দিচ্ছে পরিচিত সেই প্রশ্ন, প্রথম টেস্টে কেমন হবে উইকেট? স্পিনের জাল বিছিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানো, নাকি একেবারে স্পোর্টিং উইকেট বানিয়ে সরাসরি লড়াইয়ে নামা? কোন পথে হাঁটবে বাংলাদেশ?
বাংলাদেশ যদি পুরোনো পথেই হাঁটে, অর্থাৎ স্পিন ট্র্যাক বানায়, তাহলে সেটা হতে পারে নিজেদের জন্যই এক বিপজ্জনক ফাঁদ। কারণ, পাকিস্তান এখন আর শুধুই পেস নির্ভর দল নয়। তাদের স্কোয়াডে আছে সাজিদ খান, নোমান আলির মতো অভিজ্ঞ স্পিনার যারা উপমহাদেশের কন্ডিশনে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
মিরপুরের ধীর, টার্নিং ট্র্যাকে এই দুই স্পিনার হয়ে উঠতে পারেন ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন। বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ, যেটা মাঝেমধ্যেই ধসে পড়ে, সেই দুর্বলতাকে নির্মমভাবে উন্মোচন করতে পারেন তারা।

তাই কৌশল বদলানোই হতে পারে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। স্পিন ট্র্যাক নয়, বরং স্পোর্টিং উইকেট বেছে নেওয়ায় হবে বুদ্ধিমানের কাজ। যেখানে ব্যাট ও বলের মধ্যে থাকবে সমান লড়াই।
এই জায়গায় একটা গুরুত্বপূর্ণ নাম টনি হেমিং। রাওয়ালপিন্ডিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের সময় যিনি ছিলেন পিচ কিউরেটর, সেই হেমিং এখন বাংলাদেশ ক্রিকেটের দায়িত্বে। সেখানে ছিল প্রাণবন্ত উইকেট যেখানে পেসাররা পেয়েছিলেন বাউন্স ও মুভমেন্ট, আবার ব্যাটারদের জন্যও ছিল রান করার সুযোগ। ফলাফল? আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের সামনে, বিধ্বস্ত হয়েছিল পাকিস্তান।
মিরপুরে যদি সেই ছাঁচে উইকেট তৈরি হয়, তাহলে ম্যাচের রূপই বদলে যেতে পারে। কারণ, এই বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় শক্তি এখন তাদের পেস আক্রমণ। তাসকিন আহমেদের গতি ও আগ্রাসন, শরিফুল ইসলামের সুইং ও নিয়ন্ত্রণ, আর তার সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন আতঙ্ক নাহিদ রানা। তাঁর ১৪৫ এর উপরে গতির ধারাবাহিকতা, সঙ্গে বাউন্স, নাহিদ হয়ে উঠতে পারেন ম্যাচের এক্স ফ্যাক্টর।

স্পোর্টিং উইকেটে এই পেস ব্যাটারি হয়ে উঠবে দ্বিগুণ কার্যকর। বিশেষ করে নাহিদ রানার জন্য এমন উইকেট হবে স্বপ্নের মঞ্চ। যেখানে তিনি নিজের গতির পুরোটা ব্যবহার করতে পারবেন, ব্যাটারদের চাপে ফেলতে পারবেন, ভাঙতে পারবেন বড় জুটি। সব মিলিয়ে, সিদ্ধান্তটা এখন টিম ম্যানেজমেন্টের। তারা কি নিরাপদ ভেবে স্পিনের পথে হাঁটবে, নাকি সাহস দেখিয়ে স্পোর্টিং উইকেটে নামবে?









