তিলক ভার্মা যখন পা রাখলেন বাইশ গজে, পরিস্থিতি পুরোপুরি ভারতের অনুকূলে। সময়ের সাথে পাকিস্তানি বোলাররা পণ করে বসল ভারতকে ২০০ পেরোতে দেবেন না। তখনই সংশয়ের বলয় পর্দা ছিঁড়ে ব্যাট হাতে গর্জন তুললেন তিলক। ২১ বলে ফিফটি তুলে নিয়ে পাকিস্তানের সাজানো পরিকল্পনাকে ভেস্তে দিলেন।
অভিষেক শর্মার তাণ্ডবের পর ভারতের রানের চাকা ছুটছিল ঝড়ের গতিতে। তবে কাপ্তান শ্রেয়াস আইয়ারের ধীরগতির ব্যাটিং, ইশান কিষাণের বিদায়—সব মিলিয়ে লাগাম টেনে ধরল পাকিস্তান। ইশানের জায়গায় আসন গাড়লেন তিলক। শুরুতে তিনিও খোলসের মধ্যে ঢুকে গেলেন। প্রথম আট বলে সাত রান। ১৩ ওভার শেষে যে ভারতের সংগ্রহ ছিল ১২৮, তারাই কিনা ১৭ ওভার শেষে তুলল মাত্র ১৫৪?

২০০ তখন অনেক দূরের পথ, ১৮০-১৯০ করতে পারলেই যেন হাফ ছেড়ে বাঁচে ভারত। এরপরই দৃশ্যটা বদলে গেল। তিলকের ব্যাট বলে উঠল, অনেক হয়েছে আর না! ১১ বলে যে তিলকের রান ছিল ১৩, পরের ১০ বলে তিনি তুললেন ৩৭। শেষ তিন ওভারে ভারত তুলে ৫৭ রান। স্কোর দাঁড়াল ২১১।
এক লহমায় যেন সবকিছু পাকিস্তানের কাছ থেকে কেড়ে নিলেন তিলক। ২২ বলে খেললেন ৫১ রানের হার না মানা ইনিংস। ২৩১ স্ট্রাইক রেটেই এই নকটাই ভারতকে নিয়ে গেল অনন্য উচ্চতায়। মরা উইকেটে দাঁড়িয়েও রান উঠল ২১১।

তিলকের চরিত্রটাই এমন। যখন যা দরকার, তখন তাই করেন। হাল ধরতে হলেও যেমন তাঁর জুড়ি নেই, তেমনই ঝড় তুলতেও তিনি দ্বিধা করেন না। তাই তো ‘ইমপ্যাক্ট’ শব্দটাই যথাযথ ব্যাখ্যা পেতে হলে তিলক ভার্মার শরণাপন্ন হতে হবে।










