উইকেট কেমন, তাতে অভিষেক শর্মার কি? তিনি তো বলটাকে পেটানোর জন্যই মাঠে নামেন। আগ্রাসনের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে দেন ১০-১৫টা বলের মধ্যেই। কোনো মন্ত্র নেই, কোনো উপায় নেই, যা দিয়ে অভিষেকের ঝড়ের গতি থামানো যায়। পাকিস্তানের বোলাররা সেটা হাড়ে হাড়েই টের পেলেন।
কখনো ডিপ মিড-উইকেট চেয়ে দেখছে বলের চলে যাওয়া, কখনো বোলারের মাথার ওপর দিয়ে ভেসে যাচ্ছে বল, কখনো মাটি কামড়ে বিদ্যুৎবেগে ছুটছে ওই গোলকটা, আর এসব চিত্রনাট্যের স্ক্রিপ্ট যিনি লিখছেন, তিনি অভিষেক শর্মা।

এশিয়ান গেমসে প্রত্যেক দলের ব্যাটাররাই খাবি খেয়েছে, স্লো স্পিনিং ট্র্যাকে দাঁড়িয়ে রান করাটা কষ্টসাধ্য বৈকি। উইকেট আগলে রেখে বল বুঝে খেলাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে এসব যুক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আপন মহিমায় ব্যাট চালিয়ে গেলেন অভিষেক।
মাত্র ২৮ বল খেললেন, সাত ছক্কা আর তিন চারে রান তুললেন ৬১। স্ট্রাইক রেটটা বরাবরই চোখ ধাঁধানো থাকে। ২০০-এর নিচে নামাটা তাঁর স্বভাবে নেই। এবারও সেটাই হলো। ২১৭ স্ট্রাইক রেটের এই ইনিংসটা পাকিস্তানি বোলারদের রীতিমতো ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে।

ছন্দে থাকা অভিষেকের বিপক্ষে বোলারের একটাই কাজ, স্রেফ হাত থেকে ছুড়ে দিয়ে তাকিয়ে থাকা। কপাল ভালো থাকলে ডট বল হতেও পারে, নইলে সেটার ঠাঁই হবে গ্যালারিতে। উইকেট কেমন হলো, বোলারই বা কে, এসব দেখেন না অভিষেক। তাঁর ব্যাটের ভাষা একটাই, বলটাকে গ্যালারিতে পাঠাও। এটাই মূলত তাঁকে বিশেষ করে তোলে, স্বস্তির বর্ষণ হয়ে আসে ভারত শিবিরে।










