হাফিজের ‘ফিনিশড প্রোডাক্ট’ তত্ত্ব ও ভারতের গ্যাবা জয়

গ্যাবায় জিতেছে ভারত, অণুরণনে ছুঁয়ে গেছে প্রতিটা ক্রিকেটপ্রেমীর মন। সেই রেশ এখনো কাটেনি। শুধু ভারতবাসী নয়, বরং এই ভারতীয় উপমহাদেশের সবাই দেখেছে কিভাবে তাদেরই অঞ্চলের একটা দল গিয়ে সিরিজ জিতে এসেছে ম্যুরে নদীর পাড়ে।

গ্যাবায় জিতেছে ভারত, অণুরণনে ছুঁয়ে গেছে প্রতিটা ক্রিকেটপ্রেমীর মন। সেই রেশ এখনো কাটেনি। শুধু ভারতবাসী নয়, বরং এই ভারতীয় উপমহাদেশের সবাই দেখেছে কিভাবে তাদেরই অঞ্চলের একটা দল গিয়ে সিরিজ জিতে এসেছে ম্যুরে নদীর পাড়ে।

তবে, ভারত জিতলে সেখানে পাকিস্তানের কোন প্রসঙ্গ আসবে না তা কি করে হয়? অবধারিতভাবেই তাই একটা প্রশ্ন উঁকি দিয়েছে সবার মনে- ভারতের প্রবল প্রতিপক্ষরা এত পিছিয়ে কেন? ভারত যেখানে ফিরছে অস্ট্রেলিয়া জয় করে, পাকিস্তান সেখানে নিউজিল্যান্ডে তো সান্তনাটুকুও পায়নি।

ভারত আর পাকিস্তানের এই পার্থক্য নিয়ে অবশেষে কথা বলেছেন পাকিস্তানের গ্রেট অলরাউন্ডার মোহাম্মদ হাফিজ। তুলে ধরেছেন কিছু ‘ফ্যাক্টর’ কে যেগুলো আলাদা করেছে ভারতের সাথে পাকিস্তানকে।

তিনি যা বলেছেন, তাতে আরো একবার বোঝা গেল কেন তাঁকে সতীর্থরা প্রফেসর বলে ডাকেন। তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ভারত ৩৬ এ অলআউট হয়ে যাওয়ার পর যে দারুণভাবে ফিরে আসল যেখানে তাঁদের অধিনায়কসহ প্রথম সারির অনেক খেলোয়াড়ও ছিল না, এর পেছনে মূল কারণ হল তাঁদের তরুণ খেলোয়াড়দের একেবারে শেষ অব্দি ভালভাবে পরিচর্যা করা হয়। পাকিস্তানের তরূণেরা যেখানে বেশিরভাগ ‘প্রতিভা’ হিসেবেই থাকে, ভারতীয় তরুণেরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ছড়িও ঘোরায়।’

তরুণদের শুধু প্রতিভা থাকলেই হবে না। তাঁদের পরিচর্যা করে ‘ফিনিশড প্রোডাক্ট’ বানাতে হবে বলে মনে করেন হাফিজ, ‘সবাই প্রতিভার কথা বলে। হ্যা, প্রতিভা অবশ্যই জরুরী। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যারা পারফর্ম করে, তাঁরা কেউ শুধুই প্রতিভা নয়, ব্যাট আর বলের প্রতিভা এখানে ক্রিকেট খেলেনা, এখানে যারা খেলে তাঁরা হল সে দেশের গড়ে তোলা একটা প্রডাক্ট।’

ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে প্রবল বিরোধ থাকতে পারে, তবে তিনি বলেছেন তিনি ভারতের ম্যাচটা উপভোগ করেছেন আর শেষ অব্দি ভারত জিতে যাওয়ায় খুশিও হয়েছেন, ‘ভারতীয় দলের মোর‍্যাল নিচে নেমে গেছিল আর সেখান থেকে যেভাবে তাঁরা ফিরে এল , সিরিজ জিতল আর শুরুর ধাক্কা সামলে নিল – এটা ছিল অসাধারণ। একজন ক্রিকেট সমর্থক হিসেবে আমি এটা উপভোগ করেছি।’

তরুণ প্রতিভাদের পরিচর্যার ব্যাপারে পাকিস্তান ক্রিকেটে যে যথেষ্ট ঘাটতি আছে সেটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন হাফিজ, ‘আধুনিক যুগের ক্রিকেটে তরুণদের পরিচর্যা করে যেভাবে ‘ফিনিশড প্রডাক্ট’ বানানো হয়, পাকিস্তানে এটা করার মত কোন সিস্টেমই নেই। আর সে কারণেই অনেক তরুণ খেলোয়াড় প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাফল্য পাচ্ছে না।’

এই কয়েক বছরে তরুণ প্রতিভার উদাহরণ অবশ্য কম দেখেনি পাকিস্তান। তাঁদের বর্তমান পেসারদের মধ্যেই তো অনেকে দারুণ সম্ভাবনাময় তরুণ হিসেবেই দলে সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু, হাফিজের মতে এদের পরিচর্যা করে একটা জায়গায়ব পৌছে দেওয়ার মত কোন ঘরোয়া সার্কিট পাকিস্তানের নেই, যেটা কিনা ভারতের আছে- অকপটেই স্বীকার করেছেন হাফিজ।

তিনি বলেন, ‘দেশের তরুণ খেলোয়াড়দের পরিচর্যা করে বিশ্বসেরা বানাতে হয়, আর আমাদেরও এটাই করতে হবে। ভারতে দেখুন, তাঁদের ঘরোয়া ক্রিকেট এটুকুর নিশ্চয়তা দেয় যে তরুণ খেলোয়াড়েরা অন্তত সঠিক পরিচর্যা পাবে। কিন্তু পাকিস্তানে এসবের কোন নিশ্চয়তাই নেই।’

 

আরও পড়ুন

Leave A Reply

Your email address will not be published.