ক্রিকেট মাঠ ছেড়ে বিগ বসে

অনেক আলোচনা কিংবা বলা ভাল সমালোচনা হলেও, এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নাই যে বিশ্বজুড়ে অন্যতম জনপ্রিয় টেলিভিশন রিয়েলিটি শো’র একটি হল বিগ বস। এর ভারতীয় সংস্করণও বেশ জনপ্রিয়। মজার ব্যাপার হল, হিন্দি ভাষায় নির্মিত ‘বিগ বস’-এ বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারও অংশ নিয়েছেন। কেবল, ভারতীয় নন – তালিকায় আছে ভিনদেশি ক্রিকেটারদের নামও।

  • অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস (অস্ট্রেলিয়া)

কি? চমকে উঠলেন? হ্যা, অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী অলরাউন্ডার অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস অংশ নেন বিগ বসে। আইপিএল জয়ী এই তারকা অতিথি হয়ে এসেছিলেন পঞ্চম আসরে। শো চলাকালে তিনি অভিনেত্রী জুহি পারমারকে হিন্দি গান গেয়ে প্রপোজও করেন।

  • শ্রীশান্ত (ভারত)

ভারতের হয়ে ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ – দু’টোই জিতেছেন শ্রীশান্ত। যদিও, তাকে নিয়ে আলোচনার বেশি সমালোচনা হয়। কারণ, রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে আইপিএল চলাকালে ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে তিনি ক্রিকেট থেকে তিনি নিষিদ্ধ হন। শ্রীশান্ত বিগ বসের দ্বাদশ অধ্যায়ে অংশ নিয়ে প্রথম রানার আপ হিসেবে শেষ করেন আসর।

  • সলিল আঙ্কোলা (ভারত)

তাঁকে ঠিক ‘ক্রিকেট ছেড়ে বিগ বসে’র তালিকায় ফেলা যায় না। কারণ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চেয়ে তিনি বিনোদন জগতেই বেশি পরিচিত। ভারতের হয়ে একটি টেস্ট ও ২০ টি ওয়ানডে খেলা সাবেক এই পেসারের সবচেয়ে বড় পরিচয় হল, তাঁর টেস্ট অভিষেক হয়েছিল স্বয়ং শচীন টেন্ডুলকারের সাথে। ইনজুরির কারণে ক্যারিয়ার লম্বা না হলেও তিনি টেলিভিশন ও বড় পর্দার পরিচিত মুখ।

সলিল আঙ্কোলা বিগ বসের প্রথম মৌসুমেই অংশ নেন। তবে, বালাজি টেলিফিল্মসের সাথে চুক্তি থাকার কারণে তিনি আগেভাগেই শো ছেড়ে দেন। তাঁর বদলী হয়ে আসেন দীপক তিজোরি।

  • বিনোদ কাম্বলি (ভারত)

ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ খ্যাত বিনোদ কাম্বলিও বিনোদন জগতে নিজের ভাগ্যের অন্বেষণ করেছেন। ক্রিকেটার হিসেবে ক্যারিয়ার শেষ করার পর তিনি দু’টি হিন্দি ও একটি কান্নাড়া ছবিতে অভিনয় করেন। ২০০৯ সালে বিগ বসের তৃতীয় সংস্করণে কাম্বলি অংশ নেন। ১৫ দিন বাড়িটিতে থাকার পর তাঁর বিদায় হয়।

  • নভজোৎ সিং সিধু (ভারত)

তিনি আসলে সবই করেছেন। ক্রিকেটার হিসেবে সুনাম ছিল। সেটা শেষ করে কমেডি শো করেছেন, রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছেন, আবার ক্রিকেট মাঠে ধারাভাষ্যও দিয়েছেন। বিগ বসের ষষ্ঠ মৌসুমে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। তবে, রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা থাকায় তিনি আগে ভাগেই বিদায় নেন।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link