মুশফিক, মানুষ না মেশিন!

সিলেটের নেটে থাকা বোলিং মেশিনটার হয়তো জানা নেই, তার চেয়েও বড় একটা মেশিন দাঁড়িয়ে আছে ব্যাট হাতে। মেশিনের নাম মুশফিকুর রহিম। তিনি যে মেশিনের মতই পরিশ্রম করে যেতে পারেন - সেই কথাটা তো বাংলাদেশের ক্রিকেট পাড়ায় কারোই অজানা নয়।

সিলেটের নেটে থাকা বোলিং মেশিনটার হয়তো জানা নেই, তার চেয়েও বড় একটা মেশিন দাঁড়িয়ে আছে ব্যাট হাতে। মেশিনের নাম মুশফিকুর রহিম। তিনি যে মেশিনের মতই পরিশ্রম করে যেতে পারেন – সেই কথাটা তো বাংলাদেশের ক্রিকেট পাড়ায় কারোই অজানা নয়।

ক্যারিয়ারটা তাঁর অনেক রঙে রাঙা। অনেকটা সিলেটের আবহাওয়ার মতই। কখনও মেঘ, কখনও রোদ, কখনও বা হালকা একটু বৃষ্টি। যদিও, এবার সিলেট এসেছে একটু ভিন্ন আবহাওয়া নিয়েই। তীব্র রোদের সাথে তীব্র গরম। যদিও, সেটা মুশফিককে আটকানোর মত যথেষ্ট নয়। কারণ তিনি তো মেশিন।

সবার শুরু করার আগেই শুরু হয় মুশফিকের অনুশীলন। ক্লান্ত বিধ্বস্ত পাখির মত সবাই যখন নীড়ে ফেরার তাড়ায় থাকেন, তখনও চলে মুশফিকের ব্যাট। জড় পদার্থ বোলিং মেশিনেরও হয়তো ক্লান্তি আসে, কিন্তু মুশফিকের ক্লান্তি নেই।

সিলেটে সদ্যই শেষ হওয়া তিন দিনের স্কিল ডেভেলপমেন্ট ক্যাম্পের সবচেয়ে সরব চরিত্র হলেন এই ক্লান্তিহীন মুশফিক। পুরো অনুশীলনটা দেখার সুযোগ নেই গণমাধ্যমের। রীতিমত আয়োজন করেই ক্লোজ ডোর প্র্যাকটিসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মাঝে মিনিট ত্রিশেক বরাদ্দ গণমাধ্যমের জন্য। তাতেই সই। এর মধ্যে বারবার যেন গণমাধ্যমের চোখ মুশফিকের দিকেই যেতে বাধ্য।

মুশফিক ক্যারিয়ারের এই পড়ন্ত বেলাতে এসেও নিজেকে ভেঙে চুড়ে গড়তে চাইছেন যেন। মূলত হঠাৎ উঁচু হয়ে আসা বলগুলো সামলাতে চাইলেন মুশফিক। এই বিদ্যায় তিনি যে পারদর্শী নন – তা কিন্তু নয়। কিন্তু, কিন্তু পুরনো বিদ্যাও তো ঝালিয়ে নিতে হয়। আর মুশফিক তো ক্লাসের সেই ফার্স্ট বয় যার পড়া একদম ভাজা ভাজা না হলে মন ভরে না।

সেই করলেন মুশফিক সিলেটে। সেন্টার উইকেটে তাঁকে একের পর এক টানা বোলিং করে গেলেন নেট বোলাররা। সেটা শেষ করেই ক্ষান্ত দিলেন না, এরপর চলে এলেন মাঠের পাশের নেটে। সেখানে থ্রোয়াররা বল ছুঁড়লেন, আর মুশফিক খেলে গেলেন। ক্লান্তি কি একটুও ছুঁয়ে গেল না মুশফিক কে? না, ‍মুশফিকের ডিকশনারিতে তো ক্লান্তি শব্দের কোনো ঠাই নেই।

সাকিব আল হাসান এই ক্যাম্পে নেই। কিন্তু, তাঁর বার্তাটা ঠিকই আছে। তিনি বলেছিলেন, ২০২৩ সালটা ভাল যাবে বাংলাদেশের। আর সেই ভাল’র সূত্র ধরেই ঠিক মোক্ষম সময়ে মুশফিকের ব্যাটে রান ফিরেছে।

শুধু রানে ফেরাই নয়, মুশফিকের ব্যাট হয়ে উঠেছে দানবীয়। আর এই সকল আয়োজনই তো আসছে বিশ্বকাপকে ঘিরে। ভারতে বসবে আসর, বাংলাদেশের সুযোগটাও তাই অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে প্রবল।

বিশ্বকাপের ডাকটা নিশ্চয়ই মুশফিকও শুনতে পাচ্ছেন। এই ডাকটাই এবার আগুন হয়ে ঝরুক মুশফিকের ব্যাটে!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...