পরাজিত নায়ক শরিফুল!

এমনই দিনে যেন নায়ক হওয়ার কল্পনা আসে শরিফুলের মনে। নতুন বল হাতে নিলে তাঁর কী করে দেখানোর শক্তি আছে তাঁর এক প্রদর্শন দেখা গেল।

পুঁজি ছিল সামান্য। এমন দিনে প্রতিপক্ষের সাথে লড়াই করতে হলে শুরুতেই আক্রমণ দরকার, সাথে সাফল্যও। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই কাজটাই করে দিলেন শরিফুল ইসলাম। নতুন বলে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলেন যেন। নিজের ক্ষমতা দেখিয়ে ভাঙন ধরিয়েছেন ব্ল্যাকক্যাপসের ব্যাটিং অর্ডারে।

বাংলাদেশ ১০২ রানে অলআউট হয়ে গেলে কিউইদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ১০৩ রানের। এমন রান নিয়ে আর যাইহোক বড় স্বপ্ন দেখা যায় না। অন্তত বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব ছিল না। তবে কেউ কেউ আছে যারা সময়ের স্রোতকে উপেক্ষা করে চলেন। শরিফুল তাদেরই একজন।

অল্প রানের লক্ষ্য আটকাতে হলে শুরুতেই প্রতিপক্ষের উইকেট গুঁড়িয়ে দিতে হয়। না হলে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করা যায় না। এমনই দিনে যেন নায়ক হওয়ার কল্পনা আসে শরিফুলের মনে। নতুন বল হাতে নিলে তাঁর কী করে দেখানোর শক্তি আছে তাঁর এক প্রদর্শন দেখা গেল।

১৫ ওভারের ইনিংসে একজন বোলার করতে পারবেন সর্বোচ্চ তিন ওভার। এমন সমীকরণে দ্বিতীয় ওভারেই বল হাতে পান শরিফুল। দ্বিতীয় বলেই কিউই ওপেনার ক্যাটিনি ক্লার্ককে সাজঘরের পথ দেখান। শেষ বলে একই পরিণতি বরণ করে নিতে হয় ড্যান ক্লেভারকে।

প্রথম ওভারেই দুই উইকেট। এমন শুরুর পর নিজের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই ওপেনার টিম রবিনসনকে বোল্ড করে প্যাভিলিয়নে ফেরান শরিফুল। প্রথম দুই ওভারে মাত্র চার রান দিলেও শেষ ওভারে ১৫ রান হজম করলে বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ১৯ রানে ৩ উইকেটে।

এই ম্যাচ জেতা এমনিতেই কঠিন ছিল বাংলাদেশের পক্ষে। শরিফুল নিজের কাজটা করে দিলেও বাকি বোলাররা নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের সামনে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারেননি। তাই তো, অসমান্য প্রচেষ্টা চালিয়েও শরিফুলকে মাঠ ছাড়তে হলো পরাজিত নায়ক হয়ে।

 

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

Share via
Copy link