বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে লাল কার্ড দেখানোর যে সিদ্ধান্তে স্বপ্ন ভেঙেছিল সুইজারল্যান্ডের, আর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল আর্জেন্টিনা, কয়েক সপ্তাহ পর এসে জানা গেল, সেই সিদ্ধান্তই ছিল ভুল! যা সামনে নিয়ে এসেছে ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা আইএফএবি। অর্থাৎ, যে লাল কার্ডের কারণে সুইজারল্যান্ড দশজনের দলে পরিণত হয়েছিল, সেটি ফুটবলের আইন অনুযায়ী হওয়ারই কথা ছিল না।
সেই ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের খেলা ছিল ১-১ সমতায়। দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের সঙ্গে সংঘর্ষে বক্সের সামনে পড়ে যান ব্রিল এম্বোলো। রেফারি জোয়াও পিনেইরো প্রথমে ফাউলের বাঁশি বাজিয়ে হলুদ কার্ড দেখান পারেদেসকে।

কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। ভিএআর জানায়, পারেদেস কোনো ফাউলই করেননি। এরপর নিজের সিদ্ধান্ত পাল্টে এম্বোলোকেই অভিনয়ের অভিযোগে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। যেটি ছিল দ্বিতীয় হলুদ কার্ড। ফলে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় এম্বোলোকেও।
সেখান থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় আর্জেন্টিনার হাতে। একজন কম নিয়ে লড়াই করা সুইজারল্যান্ড অতিরিক্ত সময়ে আর টিকতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়ে সেমিফাইনালে উঠে যায় লিওনেল স্কালোনির দল।

কিন্তু এতদিন পর এসে আইএফএবি জানিয়ে দিয়েছে, এখানেই হয়েছে সবচেয়ে বড় ভুল। সংস্থাটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভিএআর এমন পরিস্থিতিতে রেফারিকে সিদ্ধান্ত বদলানোর পরামর্শই দিতে পারে না। কারণ, কোনো ফাউল হয়েছে কি না, সেটি পুনর্বিবেচনা করে হলুদ কার্ড বদলে দেওয়ার ক্ষমতা ভিএআরের নেই। তারা কেবল ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানো হলে সেটি সংশোধন করতে পারে। অর্থাৎ, এম্বোলোর বিরুদ্ধে অভিনয়ের অভিযোগ এনে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর পুরো প্রক্রিয়াটিই ছিল নিয়মবহির্ভূত।










