তিন কোচ, দুই ওপেনার- টেবিল না থাকলেও তাদের মধ্যে হল গোলটেবিল বৈঠক। এরপর প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা নিয়ে নিলেন। তানজিদ হাসান তামিম ব্যাট হাতে চলে গেলেন ব্যাটিং প্রান্তে। হেড কোচ বোলিং মেশিনের ঠিক পাশে দাঁড়িয়ে গেলেন। সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন মোবাইল হাতে নিয়ে চলে গেলেন উইকেটের পেছনে। লেগ আম্পায়ারের জায়াগায় দাঁড়ালেন ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল।
এরপর শুরু হল, ছয় চোখের নিবিড় পর্যবেক্ষণ। তামিমের সামনে রাখা গ্রানাইট স্ল্যাপ, বল ছুড়ছে বোলিং মেশিন। প্রতিটা শট তিনটি ভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে হচ্ছে পর্যবেক্ষণ। ভীষণ সিরিয়াস বাংলাদেশ দল। একই দৃশ্যের অবতারণা ঘটেছে পারভেজ হোসেন ইমনের ক্ষেত্রেও। স্কিল ডেভেলপমেন্ট, ভুল শুধরে নেওয়ার মহামূল্যবান সময়কে হেলায় হারানো মোটেও সমীচিন নয়।

২০২৫ সাল বাংলাদেশের বেশ ভাল কেটেছে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বাধিক জয়, সর্বাধিক বাউন্ডারি, সর্বাধিক রান- সবকিছুই নতুন করে লেখা হয়েছে ২০২৫ সালে। এর সিংহভাগ কৃতীত্ব বাংলাদেশের ওপেনারদের। তাদের মধ্যে অন্যতম তামিম ও ইমন। তবে তারা নিশ্চয়ই ভুলের উর্ধ্বে নন। ছোট-খাটো কিংবা বড়-সড় ব্যাটিং ত্রুটি থাকতেই পারে যেকোন খেলোয়াড়ের।
বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ দল খুব বেশি অনুশীলনের সুযোগ পাবে না। তাছাড়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ মাঠে গড়াবে সপ্তাহ দু’য়েক পরেই। এই দু’টো বিষয় মাথায় রেখেই বাংলাদেশ দলের ব্যাটারদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও ভুল শুধরে দেওয়ার মিশনে নেমেছে কোচিং প্যানেল। বিশ্বকাপের আগে ভুলগুলো যেন শুধরে নেওয়া যায় এবং নতুন স্কিল বাস্তবায়নের মঞ্চ পাওয়া যায়- সে ভাবনা থেকেই মিরপুর একাডেমি মাঠে চলছে তোড়জোড়।

বাংলাদেশের দলের চলমান এই দূর্দান্ত ধারাতে যদি সফলতাও এসে ধরা দেয়- তাতে নিশ্চয়ই আনন্দের হিল্লোল বয়ে যাবে এই তল্লাটে। তবে সেজন্য বড় মঞ্চে হতে হবে শতভাগ নির্ভুল। তামিম-ইমনরা তাই রয়েছেন আতশ কাঁচের নিচে। তিন কোচ ভিন্ন ভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে দেখেছেন তামিম-ইমনদের ব্যাটিং। এরপর তিনজনের পর্যবেক্ষণ একত্রে করে ভুল শুধরে নেওয়ার টোটকাও দিয়েছেন। ‘পিওর টিম গেম’।











