তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাট থেকে ছুটে যাওয়া বাউন্ডারির বলটা কুড়িয়ে দিচ্ছে এক কিশোরী। এটাই তার একমাত্র পরিচয় নয়, সে একজন ‘ফিউচার স্টার’। অর্থাৎ, ভবিষ্যতের তারকা হওয়ার স্বপ্নে এখানে শুধু ছেলেরাই নয়, মেয়েরাও সমানভাবে পথ চলছে। এখানে লিঙ্গভেদ নেই, আছে শুধু সম্ভাবনার সমান আকাশ।
একসময় ক্রিকেট মাঠে ‘বল বয়’ ছিল পরিচিত শব্দ। সময়ের স্রোতে সেটি ধীরে ধীরে মলিন হচ্ছিল। কিন্তু অ্যাডহক কমিটি গঠনের পর তামিম ইকবাল যখন সভাপতির আসনে বসলেন, তখনই পুরনো সেই ধারণাকে নতুন রূপে ফিরিয়ে আনা হলো। তবে এবার একটু ভিন্নভাবে, নাম বদলে হলো ‘ফিউচার স্টার্স’। শুধু নামেই নয়, ভাবনাতেও এসেছে পরিবর্তন। এখানে আর সীমাবদ্ধতা নেই, নেই কোনো একপাক্ষিকতা।
এই ‘ফিউচার স্টার্স’রা আসলে সম্ভাবনার ছোট ছোট প্রদীপ। তারা মাঠের এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকলেও, তাদের চোখজোড়া ভরা থাকে স্বপ্নে। আজ তারা বল কুড়িয়ে দিচ্ছে, কাল হয়তো সেই বলটাই তারা ব্যাটে তুলে মারবে গ্যালারির বাইরে। ছোট থেকেই তো বড় হওয়ার শুরু, কুঁড়ি থেকেই তো প্রস্ফুটিত হয় ফুল। এই কিশোর-কিশোরীরাও ঠিক তেমনই। এখনের ফিউচার স্টার্স একসময় পরিণত হবে স্টারে।

ক্রিকেট এখন আর শুধু ছেলেদের গণ্ডিতে আটকে নেই। মেয়েরাও সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে, নিজের জায়গা করে নিচ্ছে। তাই ক্রিকেটকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ভাবনায় নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরী, সবার জন্যই সমান সুযোগ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। বিসিবির এই উদ্যোগ যেন সেই স্বপ্নকেই আরও দৃঢ় করে তুলেছে।
তাই এখন বাউন্ডারি লাইনে দাঁড়িয়ে শুধু কিশোরদেরই দেখা যায় না, দেখা যায় কিশোরীদেরও। তারা খুব কাছ থেকে দেখছে খেলার উত্তাপ, অনুভব করছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্পন্দন। এই অভিজ্ঞতাই তাদের ভেতরে জাগিয়ে তুলছে সাহস, আগ্রহ আর একদিন বড় হওয়ার তাড়না।
কারণ, তারা শুধু বল কুড়িয়ে দেওয়া কেউ নয়, তারা আগামী দিনের গল্প। তারা ভবিষ্যতের ক্রিকেট, ভবিষ্যতের তারকা। আর সেই আকাশে, স্বপ্নের রঙে, কোনো বিভাজন নেই, আছে শুধু ওড়ার অবারিত সুযোগ।












