ম্যাচ যত বড়, বৈভব তত ভয়ংকর

তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের এই পরিসংখ্যান যেন একটা অদ্ভুত অথচ চমৎকার সংকেত দিচ্ছে। ম্যাচ যত বড়, বৈভবের পারফরম্যান্স তত বেশি বিধ্বংসী।

১৫ বছর বয়সী বৈভব সুরিয়াভানশি যেন চাপের কাছে হার মানতে শেখেননি। বরং তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের এই পরিসংখ্যান যেন একটা অদ্ভুত অথচ চমৎকার সংকেত দিচ্ছে। ম্যাচ যত বড়, বৈভবের পারফরম্যান্স তত বেশি বিধ্বংসী।

সাধারণত বড় ম্যাচের স্নায়ুচাপ তরুণ ব্যাটারদের ছন্দ নষ্ট করে দেয়, কিন্তু বৈভবের ক্ষেত্রে বিষয়টি ঠিক উল্টো। এই মঞ্চগুলোতে তিনি যেন বাড়তি অনুপ্রেরণা খুঁজে পান এবং নিজের শ্রেষ্ঠ রূপটি প্রদর্শন করেন।

বড় ম্যাচে জ্বলে ওঠার এই সক্ষমতা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে বেশ কিছু হাই ভোল্টেজ নকআউট ম্যাচে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার ৮০ বলে ১৭৫ রানের দানবীয় ইনিংস খেলে দলকে ট্রফি জিতিয়েছিলেন তিনি।  যা ছিল টুর্নামেন্টের ফাইনালে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোরের রেকর্ড।

একই ধারাবাহিকতা তিনি বজায় রেখেছেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) মঞ্চেও। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে এলিমিনেটরে ২৯ বলে ৯৭ রান। গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে ৪৭ বলে ৯৬ রানে। এই ইনিংসগুলোই প্রমাণ করে যে, চাপের মুখে ভেঙে পড়া তো দূরের কথা, বরং তিনি বরং সেই পরিস্থিতিকে নিজের করে নিতে দক্ষ।

এই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা তিনি বজায় রেছেন সদ্য সমাপ্ত ত্রিদেশীয় সিরিজেও। পুরো সিরিজ জুড়ে নামের প্রতি সুবিচার করতে না পারায় সমালোচনার শিকার হচ্ছিলেন তিনি।

অথচ ফাইনালের মঞ্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেললেন ২৯ বলে ৯৪ রানের এক অপ্রতিরোধ্য ইনিংস! যেখানে তিনি মাত্র ১১ বলে অর্ধশতক হাঁকিয়ে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে নতুন নজির স্থাপন করেছেন।

বড় ম্যাচে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের এই অদম্য মানসিক ক্ষুধা থাকলে, অদূর ভবিষ্যতে বৈভব সুরিয়াভানশি যে ভারতীয় ক্রিকেটের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নাম হয়ে উঠবেন, এতে সন্দেহের অবকাশ কম। আলোর ঝলকানি যত বাড়ে, বৈভব তত বেশি জ্বলে ওঠেন। তিনি পরিস্থিতির কাছে নতি স্বীকার করেন না, বরং পরিস্থিতিকে নিজের ব্যাটের ছন্দে নাচাতে জানেন।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link