বিশ্বকাপে সেরার দৌড়

এই প্রতিযোগিতাপূর্ণ টুর্নামেন্ট প্রায় শেষের দিকে। এই মুহূর্তে নিশ্চয়ই সবার মনে প্রশ্ন জাগছে, কে হতে পার এবারের বিশ্বকাপের টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়? 

ধুন্ধুমার এক আয়োজন। জমজমাট ক্রিকেটীয় লড়াইকে আরও জমজমাট করেছে বৃষ্টি, সেই সাথে অনিশ্চয়তা। সুপার টুয়েলভের শেষ দিনে গিয়ে নির্ধারিত হয়েছে ঠিক কোন চার দল খেলবে অষ্টম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। ঠিক কতটা প্রতিদ্বন্দীতাপূর্ণ ছিল এবারের টুর্নামেন্ট এই একটা পরিস্থিতি বিবেচনা করলেই আন্দাজ করে নেওয়া যায়। এই প্রতিযোগিতাপূর্ণ টুর্নামেন্ট প্রায় শেষের দিকে। এই মুহূর্তে নিশ্চয়ই সবার মনে প্রশ্ন জাগছে, কে হতে পার এবারের বিশ্বকাপের টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়?

সেই প্রশ্নের একটা উত্তর খোঁজার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে খেলা ৭১। এবারের টুর্নামেন্টে ব্যক্তিগত পারফরমেন্সের ফুলঝুড়ি ফুটেছে। সবাই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। সবার লক্ষ্য ছিল একটাই। দলকে একটা শক্ত পজিশনে নিয়ে যাওয়া। গুটিকতক খেলোয়াড়ই সেটা করতে পেরেছেন। তাদের মধ্যে থেকেই টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড় বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। চলুন তবে আলোচনা শুরু করা যাক।

  • বিরাট কোহলি (ভারত)

সবার আগে যে নামটি উঠে আসার কথা, সেটা বিরাট কোহলি। যার ফর্মহীনতায় ভুগেছে ভারত, মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছে গোটা ক্রিকেট বিশ্ব। তবে গেল এশিয়া কাপেই তিনি ফেরেন নিজের স্বরুপে। তুলে নেন নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি শতক। সেই ফর্মের ধারাবাহিকতা তিনি অব্যাহত রেখেছেন এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও। এখন পর্যন্ত ২৪৬ রান নিয়ে রয়েছেন সবার উপরে। তিনটি অপরাজিত অর্ধশতক তাঁর গড়কে নিয়ে গিয়েছে অনন্য উচ্চতায়। পাঁচ ম্যাচে তাঁর গড় ১২৩।

দলের জন্য প্রতিটা মুহূর্তে তিনি পারফর্ম করবার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তাঁর করা প্রতিটা রান দলের জয়ে রাখছে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা। পাকিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ৮২ রানের ইনিংসটা তো তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা। একটা প্রান্ত আগলে রেখে কঠিন সমীকরণের জয়টা তিনি এনে দিয়েছেন টিম ইন্ডিয়াকে। নিজের এই ধারাবাহিকতা তিনি নিশ্চয়ই বজায় রাখতে চাইবেন টুর্নামেন্টের শেষ অবধি। আর তেমনটা হলে ভারতের শিরোপা জয় ও তাঁর টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার।

  • সুরিয়াকুমার যাদব (ভারত)

বিরাট কোহলির পথের কাঁটা হওয়ার দৌড়ে তাঁর সতীর্থ সুরিয়াকুমার যাদবও রয়েছেন। সুরিয়াকুমার যাদব রয়েছেন নিজের ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে। তাঁকে তো বর্তমানে বিবেচনা করা হয় টি-টোয়েন্টির এক নম্বর খেলোয়াড় হিসেবে। মাঠের আনাচে-কানাচে শট খেলতে দারুণভাবে পটু সুরিয়া। এবারের বিশ্বকাপে নিজের প্রতিটা বিধ্বংসী ইনিংসের বদৌলতে রান করে দলকে সাহায্য করে যাচ্ছেন শুরু থেকেই। সুরিয়াকুমার ব্যাট হাতে নামা মানেই লক্ষ্যমাত্রা ছুঁয়ে যাবে পরিকল্পনা মাফিক।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, তিনি এবারের বিশ্বকাপে রান করে যাচ্ছেন ১৯৩ এর বেশি স্ট্রাইক রেটে। এই স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করে তিনি তিনটি অর্ধশতক তুলে নিয়েছেন। রান সংগ্রাহকদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছেন। মাঠে নেমে যতদ্রুত সম্ভব দলের জন্য রান সংগ্রহে তিনি থাকছেন তৎপর। তাঁর খেলা ক্যামিও ইনিংসগুলো দলের জয়ে বেশ সাহায্য করছে। তিনি চেষ্টা করছেন দলকে সর্বদা একটা স্বস্তির জায়গা তৈরি করে দিতে। আর তিনি সেটা ধারাবাহিকভাবেই করে যাচ্ছেন এবারের টুর্নামেন্টে। সুতরাং তিনিও বনে যেতে পারেন টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়।

  • গ্লেন ফিলিপস (নিউজিল্যান্ড)

আরও একটিবার বৈশ্বিক কোন টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ের স্বপ্নে বিভোর নিউজিল্যান্ড। তাদের এই স্বপ্নকে আরেকটু বেগবান করছেন ডানহাতি ব্যাটার গ্লেন ফিলিপস। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক শতক হাঁকিয়েছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। তাছাড়া একটি অর্ধশতকও রয়েছে তাঁর নামের পাশে। বেশ ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল নিউজিল্যান্ড। সে দলের সবাই পারফর্মার। তবুও গ্লেন ফিলিপস খানিকটা আলো ছড়াচ্ছেন বেশি।

 

তিনি প্রায় ১৬৪ স্ট্রাইক রেটে রান করে যাচ্ছেন এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। বাকিদের তুলনায় একটি ম্যাচ কম খেলার সুযোগ পেয়েছেন ফিলিপস। বৃষ্টিতে ভেসে যায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি। নতুবা তিনি হয়ত নিজেকে আরেকটু এগিয়ে রাখতে পারতেন  টুর্নামেন্ট সেরা হবার দৌড়ে। তবুও সুযোগ একেবারেই হাতছাড়া হয়ে যায়নি। তিনি নিশ্চয়ই চাইবেন পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনালে অবদান রেখে দলকে শিরোপা জয়ের আরও কাছে নিয়ে যেতে।

  • স্যাম কারেন (ইংল্যান্ড)

২০১০ সালের পর আবারও শিরোপা জয়ের জন্য মড়িয়া ইংল্যান্ড দল। দলে থাকা প্রত্যেকটা খেলোয়াড় নিজেদের সেরাটা দেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সে তালিকায় সবার উপরেই রয়েছে বাঁ-হাতি পেসার স্যাম কারান। সুপার টুয়েলভে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বোলার তিনি। এখন পর্যন্ত চার ম্যাচে দশটি উইকেট নিজের পকেটে পুরেছেন কারান। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় তাঁর ইকোনমি রেট।

মাত্র ৬.৪০ ইকোনমি রেটে তিনি বোলিং করে যাচ্ছেন। আধুনিক টি-টোয়েন্টির প্রেক্ষাপটে যা প্রশংসনীয়। দলের বোলিং আক্রমণের সবচেয়ে আস্থাভাজন বিকল্পে পরিণত হয়েছেন কারান। তাছাড়া ডেথ ওভারেও প্রতিপক্ষকে চাপে রাখছেন ভীষণভাবে। ইংল্যান্ড যদি নিজেদের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে তবে কারান বনে যেতে পারেন টুর্নামেন্ট সেরা। তিনিও নিশ্চয়ই খুব করে চাইছেন দলকে আরও একবার শিরোপা জেতাতে।

  • শাদাব খান (পাকিস্তান)

স্বপ্ন ধুলোয় মিশে যেতে দেখা। এরপর সেখান থেকে একেবারে ভাগ্যের জোরে পুরো ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে যাওয়া। এভাবেই হয়ত বর্ণনা করা যায় পাকিস্তানের বিশ্বকাপ যাত্রাকে। তবে তাই বলে যে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের অবদান নেই নিজেদের সেমিফাইনাল যাত্রায় সে কথাও বলা যায় না। শাদাব খান পাকিস্তানকে আরও একটি শিরোপা জেতাতে যখনই সুযোগ পাচ্ছেন নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ রাখছেন। স্যাম কারানের সমপরিমাণ উইকেট তিনিও বাগিয়েছেন নিজের ঝুলিতে।

তাছাড়া ব্যাট হাতে আগ্রাসী এক অর্ধশতকের দেখাও পেয়েছেন শাদাব খান। সেটা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে। তাঁর সেই ইনিংসের বদৌলতেই সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছিল পাকিস্তান। তাছাড়া প্রতি ম্যাচেই নিজের ইকোনমি রেটটা সহনশীল পর্যায়ে রাখতে পারছেন। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রুও এনে দিচ্ছেন শাদাব খান। পাকিস্তানের হাতে শিরোপা উঠলে তিনিও টুর্নামেন্ট সেরা হবার যোগ্য দাবিদার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...