ফুটবল বিশ্বকাপের বছর মানেই ব্যক্তিগত অর্জনের সমীকরণে বড় অদলবদল। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তাই এখন ফুটবল ভক্তদের সামনে মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন একটাই, কে পাচ্ছেন ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর?
এবারের বিশ্বকাপে কিলিয়ান এমবাপ্পে পেয়েছেন গোল্ডেন বুট। টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন রদ্রি হার্নান্দেজ। লামিন ইয়ামালের ড্রিবলের দৃশ্য ভুলবার নয়। হ্যারি কেইনের আগ্রাসী স্ট্রাইক এককথায় দুর্দান্ত। আর লিওনেল মেসির পারফরম্যান্সও ছিল চোখধাঁধানো। ব্যালন ডি’অরের মূল লড়াইটা এবার এই পাঁচ তারকার মধ্যেই জমে উঠবে বলে মনে করছেন ফুটবল বোদ্ধারা।

তালিকায় সবার ওপরে আছেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও যেন এক চিরন্তন বিস্ময় তিনি। আর্জেন্টিনাকে একাই টেনে নিয়েছেন বিশ্বকাপের ফাইনাল পর্যন্ত। আট গোল আর চার অ্যাসিস্ট করে পুরো টুর্নামেন্টে করেছেন অতিমানবীয় পারফরম্যান্স। তিনি কি গড়তে পারবেন ফুটবল ইতিহাসে বেশি বয়সে এই সম্মাননা জয়ের রেকর্ড?
এরপরই আসে ১৯ বছরের বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামালের নাম। বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা জয় আর স্পেনের হয়ে বিশ্বজয় করেছেন তিনি এবছর। লা লিগায় ২৪ গোল আর ১৭ অ্যাসিস্ট নিয়ে তিনি এখন স্প্যানিশ ফুটবলের রাজপুত্র।

স্পেনের মাঝমাঠের জেনারেল রদ্রি হার্নান্দেজও পিছিয়ে নেই। স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের নেপথ্যের কারিগর তিনি। ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তার ‘মাস্টারক্লাস’ পারফরম্যান্স দর্শকদের মনে দাগ কেটেছে। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগেও তাঁর পারফরম্যান্স ছিল অনবদ্য।
ইংলিশ গোলমেশিন হ্যারি কেইনও ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদার। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৩৬ গোল করে এরই মধ্যে তিনি জিতেছেন ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুট। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের জার্সিতে ভেঙেছেন গ্যারি লিনেকারের ঐতিহাসিক রেকর্ড। বায়ার্নের হয়ে ডাবল জয় তাকে দিচ্ছে আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি।

আর কিলিয়ান এমবাপ্পে? চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। বিশ্বকাপে এবার অবিশ্বাস্যভাবে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতে ব্যক্তিগত দক্ষতায় তিনি ছাড়িয়ে গেছেন সবাইকে। ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চলতি মৌসুমে শিরোপা না জিতলেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে তিনি সবার ওপরে।
অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের এই দ্বন্দ্বে পারফরম্যান্সের নিরিখে শেষ হাসি হাসবেন কে? সোনালী সেই গোলকের হাতছানির অপেক্ষায় আছে কোন তারকার হাত? জানা যাবে শিগগিরই।











