বৈভবকে উপেক্ষা করা চলে না!

মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে। বৈভব সুরিয়াভানশি সেই আধারে ডুবে থাকা সূর্যকে টেনে তুলেছেন। বয়সকে তো হারিয়েছেন সেই কবে, এবার সমালোচকদের মুখে এঁটে দিলেন এক অদৃশ্য প্রলেপ। ৮১ রানের আরও এক ইনিংস আলোকিত করল হারারের চারপাশ।

মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে। বৈভব সুরিয়াভানশি সেই আধারে ডুবে থাকা সূর্যকে টেনে তুলেছেন। বয়সকে তো হারিয়েছেন সেই কবে, এবার সমালোচকদের মুখে এঁটে দিলেন এক অদৃশ্য প্রলেপ। ৮১ রানের আরও এক ইনিংস আলোকিত করল হারারের চারপাশ। তিনি যে ঝড়, তিনি যে শাশ্বত সত্য হয়েই এসেছেন ক্রিকেট ভুবনে, হয়তো আলো ছড়াতে কটা দিনের অপেক্ষা করতে হলো, তবে প্রস্ফুটিত গোলাপের সুবাস পেতে সময় তো লাগবেই।

ইংল্যান্ডের দুর্গে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিষেক, তাও আবার মাত্র ১৫ বছর বয়সে। এর থেকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ক্যারিয়ার শুরুর সময় ধেয়ে আসে কি? ধেয়ে আসা ঝড় কিছুটা টালমাটাল করে দিল বৈভবকে, নিজেকে সামলাতে সময় লাগল কিছুক্ষণ। অপেক্ষাটা ঘড়ির কাটায়, সময়টা কখন নিজের পক্ষে আসবে।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেটা এলো অবশেষে। টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচেই ফিফটি তুলে বুঝিয়েছিলেন, এ মঞ্চে তাঁকে উপেক্ষা করার সাধ্য আছে কার? তবে তখনও সব শঙ্কা উবে যায়নি। এ তো জিম্বাবুয়ে, খেলল তো সবে একটা ম্যাচ। তিন ম্যাচে ব্যর্থ হওয়া ছোকরার একটা ম্যাচে ফিফটি কি সব শঙ্কার আগুনে জল ঢেলে দিতে পারে?

না, পারে না। অপেক্ষা বাড়ল। আবারও দেখাতে হবে বিস্ময়বালকের কারিশমা। দ্বিতীয় ম্যাচে মোটে ২০, না এবারও হলো না। অবশেষে হলো, হতেই হতো। হারারের মাটি কেঁপে উঠল বৈভব নামক ঝড়ে। আরও এক বিস্ময়ের সবটা আলো এসে পড়ল ক্রিকেটপাড়ায়। একেকটা ছয় যেন নিজেকে প্রমাণের ধারাপাত। মাটি কামড়ে গড়িয়ে যাওয়া একেকটা বল যেন বার্তাবাহক, এ ছেলে বিশ্বজয় করতে এসেছে, সমীহ করো একে।

৪৯ বলে ৮১ রানের ইনিংস। কিছুটা ব্যতিক্রমের আভাস পাওয়া যাচ্ছে না? হ্যাঁ, একটু ধীরলয়ে ফিফটি করেছেন, ৩১ বলে এসেছে তা। তবে এরপরও অবিচল তাঁর রানের চাকা। বাউন্ডারি আর ওভার বাউন্ডারিই তাঁর পরিচয়। শেষমেষ, চার ছক্কা আর আট চারে সাজানো অনবদ্য এক ইনিংস। এটাকে কি শান্ত ঝড় বলা যায়? হয়তো। তবে এ ঝড় প্রমাণপত্র, বৈভবকে উপেক্ষা করো না, এই ছেলেটাকে অন্তত উপেক্ষা করা চলে না।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link