‘রেফারিং বিতর্ক’ নিয়ে বিরক্ত জিদান

মাঠের খেলায় রিয়াল সোসিয়েদাদের মাঠ থেকে ২-১ গোলের জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ফিরেছে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষেও। তবুও ম্যাচে রেফারির কিছু সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ করছে রিয়ালের এ অর্জনকে। তাতেই জিদানের যারপরনাই বিরক্তি।

আলোচনার কারণ দ্বিতীয়ার্ধে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির তিন সিদ্ধান্ত। শেষতক ম্যাচের নির্ধারক হয়ে গেছে যে সেগুলোই! ৫০ মিনিটে সোসিয়েদাদ গোলমুখে আগুয়ান ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে নিজেদের বক্সে ফাউল করে বসেন স্বাগতিক ডিফেন্ডার ডিয়েগো ইয়োরেন্তে। ভিএআর পরীক্ষার পর পেনাল্টি পায় রিয়াল। যাকে কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক সার্জিও রামোস। 

পরের ঘটনা ৬৯ মিনিটে। আদনান ইয়ানুজাইয়ের শট রিয়ালের জালে জড়ায়। তবে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরা থেকে আটকায় ভিএআর। পরীক্ষায় দেখা যায়, শটটি করার সময়ে অফসাইডে থেকে গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার দৃষ্টি আটকে দিচ্ছিলেন মিকেল মেরিনো। তবে মেরিনো ঠিক কোর্তোয়ার দৃষ্টিরেখায় ছিলেন কিনা তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।

এর মিনিট দুয়েক পর কারিম বেনজেমার গোলেও ছিলো সন্দেহের তীর। ফেদে ভালভার্দের লংবল আয়ত্বে নিয়েই দারুণ শটে রিয়ালের ব্যবধান করেন তিনি। ফরাসি ফরোয়ার্ড যেভাবে আয়ত্বে নিয়েছিলেন তাতেই সৃষ্টি হয় সন্দেহ, শেষমেশ ভিএআরে হয় এর নিষ্পত্তি। দেখা যায় বুক আর বাহুর মাঝামাঝি জায়গা দিয়ে রিসিভ করেছিলেন বেনজেমা, সিদ্ধান্ত যায় রিয়ালের পক্ষে। 

৮৩ মিনিটে ইয়ানুজাইয়ের বাতিল হওয়া গোলের ‘খলনায়ক’ মিকেল মেরিনোর গোলে ব্যবধান কমালেও ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ।  ম্যাচপরবর্তী সংবাদ সম্মেলনেও রেশ ছিল ভিএআর বিতর্কের।  

ভিএআর নিয়ে আলোচনায় কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে জিদান জানান, ‘এ ব্যাপারটায় আমার খুব রাগ হয়! রেফারিং নিয়ে এমনভাবে আলোচনা হচ্ছে যেন আমরা নিজেরা কিছুই করিনি!’

‘আমি ঘটনাগুলো স্পষ্ট দেখিনি। কিন্তু আমাকে বলা হয়েছে ভিনিসিয়াস একটা ফাউলের শিকার হয়েছিলো আর কারিমের গোলটা ন্যায্য। বিতর্কে যাবো না কারণ রেফারি তার কাজ করেছেন। আমি শুধু ভাবতে চাই এই জয়টা যোগ্য দল হিসেবেই পেয়েছি আমরা। কে কি বললো, সেটা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা আমাদের নেই। আমরা মাঠে জেতার চেষ্টা করি, আজকেও সেটাই করেছি। এটা ন্যায্য এক জয়।’

সোসিয়েদাদকে হারিয়ে ৩০ ম্যাচ শেষে ৬৫ পয়েন্ট ঝুলিতে পুরেছে রিয়াল। পয়েন্টে বার্সেলোনার সঙ্গে সমতায় থাকলেও হেডটুহেডে এগিয়ে থাকায় পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছে জিদান অ্যান্ড কোং। 

‘এটা দারুণ জয়। কিন্তু এর ফলে লক্ষ্যচ্যুত হওয়া চলবে না আমাদের। আরও আট ম্যাচ বাকি, শেষের আগে কিছুই নির্ধারিত হবে না। টানা নয়টা পয়েন্ট জিতলেও আমরা এখনও কিছু জিতিনি। শেষ পর্যন্ত এটা কঠিনই হতে যাচ্ছে। আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

 

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link