ভারতের শ্বাস আটকে ছিল পুরো নব্বই মিনিট। গোল শূন্য ড্রয়ের ম্যাচেও ভারতের সাথে মনস্তাত্ত্বিক লড়াইটা জিতে ফিরেছে বাংলাদেশ দল। শিলংয়ের স্টেডিয়াম জুড়ে ছিল সুনীল ছেত্রীদের স্লোগান। এমন হাই গ্যাসোলিন ম্যাচে ওই দর্শকরাই তো দ্বাদশ খেলোয়াড়। কিন্তু তাদেরকেও রুখে দিয়েছে বাংলাদেশ দল।
হামজা চৌধুরি গায়ে চাপিয়েছেন বাংলাদেশের জার্সি। এই তল্লাটে ফুটবলের উন্মাদনা উড়ে এল সুদূর ইংল্যান্ড থেকে। এই একটা নামের ভারে ভারত ছিল কোণঠাসা। বাংলাদেশের ফিনিশিং দূর্বলতায় বরং এ যাত্রায় পার পেয়ে গেল স্বাগতিকরা।
মোট সাত খানা সহজ গোলের সুযোগ বাংলাদেশ হেলায় হারিয়েছে। পক্ষান্তরে বাংলাদেশের রক্ষণ দূর্গের কাঁপন ধরেছে সামান্যই। বদলি হিসেবে মাঠ থেকে উঠে যাওয়ার সময় সুনীলের ওই ক্লান্ত মুখখানাই যেন বলে দেয়, বাংলাদেশ ঠিক কতটুকু ভুগিয়েছে ভারতকে!

আক্রমণ থেকে রক্ষণ সর্বত্র হামজা চৌধুরির ছিল বিচরণ। তার অভিজ্ঞতার আর ক্লাসের কাছে বারবার মাত খেয়েছে ভারত দল। আক্ষেপ স্রেফ একটা গোল করতে না পারার। ভারতের মাটিতে ভারতকে এতটা চাপে ফেলবে বাংলাদেশ, সেটা হয়ত কল্পনাতেও ভাবেনি স্বাগতিকরা।
ম্যাচের আগেই কথার উত্তাপে উষ্ণতা ছড়িয়েছে কাঁটাতারের ফাঁক গলে। সেই উত্তাপটা শিলংয়ের ঠান্ডাকেও হার মানিয়েছে। বাংলাদেশের জন্যে এই ড্র, খানিকটা জয়ের সমানও বটে। কিন্তু এই এক পয়েন্টই বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গের কারণ হতে পারে।
এশিয়ান কাপের এই গ্রুপটায় বাংলাদেশই সম্ভবত সবচেয়ে পিছিয়ে। ভারতের বিপক্ষে তিনটি পয়েন্ট পেয়ে গেলে হয়ত বাংলাদেশ পরের রাউন্ডে যাওয়ার আশা অন্তত করতে পারত। কিন্তু এবার রাস্তাটা খানিক সংকীর্ণ হল। ভারতের জন্যেও একথা সত্য।

তবে শিলংয়ে অন্তত টের পাওয়া গেল হামজার প্রভাব। একজন খেলোয়াড় আপনাকে ম্যাচ জেতাবে না। কিন্তু প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। সেটাই হয়েছে ভারতের ক্ষেত্রে। এদফা শেষ হল দক্ষিণ এশিয়ান ক্লাসিকো গোল শূন্য ড্রতে। ১৯ নভেম্বর ঘরের মাঠে কাঙ্ক্ষিত জয়টাই নিশ্চয়ই পেতে চাইবে বাংলাদেশ। ততদিন অবধি বদলের হাওয়া ইতিবাচকতার দিকে এগিয়ে যাবে।











