আর্জেন্টিনার হৃদয়ে বইছে অন্যরকম উত্তাপ। যেতে নাহি দিব হায়, তবু যেতে দিতে হয়। লিওনেল মেসির বিদায়ের বাতাস এখন বুয়েন্স আয়ার্সের অলিগলিতে। আর্জেন্টিনার মাঠে নিজের শেষ ম্যাচ খেলতে নামবেন ফুটবল বিশ্বের এই অবিস্মরণীয় কিংবদন্তি।
লিওনেল মেসি নিজেই বলে দিয়েছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে আর দেখা যাবে না তাকে। তবে সেই বিদায়ের ছায়া নেমে এসেছে আগেই। ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে বৃহস্পতিবারের ম্যাচ হবে তার শেষ প্রতিযোগিতামূলক লড়াই আর্জেন্টিনার মাটিতে।
মেসি সোজাসাপ্টা বললেন, ‘হ্যাঁ, এটা স্পেশাল হবে, খুবই স্পেশাল। কারণ দেশে এটা আমার শেষ বাছাইপর্বের ম্যাচ। জানি না এরপর কোনো প্রীতি ম্যাচ পাবো কিনা, নাও পেতে পারি।’

তাই পুরো পরিবারকে পাশে চেয়েছেন তিনি—স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা, ভাই-বোন, যারা পারেন সবাই থাকবেন তার শেষ নাচ মঞ্চায়নের সঙ্গী হয়ে। এমন ঘোষণা আসার পর টিকিটের বাজারে যেন আগুন লেগেছে। দাদু-নাতি থেকে শুরু করে পুরো পরিবার একসঙ্গে ছুটছে শুধু একটা মুহূর্তের জন্য—শেষবার বুয়েনস আয়ার্সে মেসিকে মাঠে দেখার আনন্দের জন্য।
টিকিটের দাম ১৩০ ডলার থেকে শুরু হয়ে ছুঁয়েছে ৪৩০ ডলার, তবুও চাহিদার ঝড় সামলানো যায়নি। আর্জেন্টিনার জাতীয় দল যে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে একত্রিত করে, সেই বন্ধন এবার আরও দৃঢ় হল মেসিকে ঘিরে।
কিন্তু এ ম্যাচ শুধু আবেগ নয়, ইতিহাসও বটে। দক্ষিণ আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ইতিহাসে মেসি ইতোমধ্যেই সর্বোচ্চ গোলদাতা। এবার সামনে তার হাতছানি দিচ্ছে আরেকটি রেকর্ড: সর্বাধিক ম্যাচ খেলার।

এখন পর্যন্ত বাছাইয়ে মেসির ম্যাচসংখ্যা ৭১, আর শীর্ষে আছেন ইকুয়েডরের কিংবদন্তি ইভান হুর্তাদো, ৭২ ম্যাচ নিয়ে। ভেনেজুয়েলা ও ইকুয়েডরের বিপক্ষে যদি স্কোয়াডে থাকেন, তবে এককভাবে সবার ওপরে উঠবেন মেসি।
আর তাতে যোগ হবে এক অদ্ভুত কবিতার ছন্দ—কারণ তার শেষ ম্যাচ হবে কুইটোতেই, সেই শহরে যেখানে ২০১৭ সালে তাঁর হ্যাটট্রিক বাঁচিয়েছিল আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্বপ্ন। আট বছর পর আবারও সেখানে নামবেন মেসি, এবার বিদায়ের প্রহরে, যখন সব হিসাব মিটিয়ে ইতিহাসের শেষ পাতা লেখার পালা।
এই সময়ে দলের অনুশীলনেও তিনি ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সোমবার বিশ্রামে থাকলেও মঙ্গলবার রদ্রিগো ডি পল আর লিয়ান্দ্রো পারেদেসের সঙ্গে পূর্ণ অনুশীলনে ফিরেছেন তিনি। নিকোলাস ওটামেন্ডি ক্লান্তির কারণে অনুশীলনে ছিলেন না, তবে বুধবার যোগ দেবেন।

তরুণ কয়েকজন যদিও সিনিয়র দলের বদলে অনুশীলন করেছেন অনূর্ধ্ব-২০ দলের সঙ্গে। সবকিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে প্রস্তুত আর্জেন্টিনা, তবে আসল আলো থাকবে কেবল এক নামেই—লিওনেল মেসি।
দলের কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ‘আমরা যতদিন তাকে পাচ্ছি, ততদিন উপভোগ করতে চাই। সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ওর প্রাপ্য, আমাদের দায়িত্ব হলো তাকে সম্মান জানানো।’
অপেক্ষায় বুয়েন্স আয়ার্স। জাদুকরের শেষ নাচ, অশ্রুভেজা সেই অমলিন হাসি। দুই পায়ের ভূবনভোলানো-হৃদয় কাঁপানো ফুটবল ছন্দ – চিরকালের জন্য জমা হয়ে যাবে ফুটবল ইতিহাসের স্মৃতির পাতায়।











