ফুটবল ঠিক কবিতার মতই। কান্না আর আনন্দের মিলনেই তার পূর্ণতা। সেই কবিতার কবি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, যে কবিতা লিখলেন তিনি, সেখানে থাকল ডিয়েগো জোতার নাম।
আর্মেনিয়ার রিপাবলিকান স্টেডিয়ামে সেই কবিতার জন্ম হলো আরেকবার—যেখানে একদিকে শোক, অন্যদিকে আলো ছড়ালেন পর্তুগালের চিরন্তন নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ডিয়েগো জোতাকে স্মরণ করার রাতে রোনালদো গড়লেন নতুন ইতিহাস, প্রমাণ করলেন বয়স কত সেসব নিয়ে ভাবার সময় নেই তাঁর।

ডিয়োগো জোটা আর তার ভাই আন্দ্রে সিলভা—এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দুজনের জীবন থেমে গেছে জুলাই মাসেই। তাই আর্মেনিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে এক মিনিট নীরবতা, মাঠে নামা প্রতিটি পর্তুগিজ ফুটবলারের চোখে জোতার স্মৃতি।
ম্যাচের দশ মিনিটেই জোয়াও ফেলিক্সের পা থেকে এলো প্রথম গোল। মনে হলো, আজকের দিনটা শুধু জয়ের নয়, একটা নিবেদন। তারপর ২১ তম মিনিটে গোল পেলেন রোনালদো—যে সংখ্যাটা জোতার জার্সির পিঠে লেখা থাকত সবসময়।

যেন শোকের আবহে ফুটে উঠল এক অদৃশ্য সংযোগ। ম্যাচ শেষে নুনো তাভারেস বললেন, ‘জোতা আমাদের সাথেই ছিলেন। সব সময় থাকবেন, আজ সেটা পরিস্কার বোঝা গেছে।’
এরপর ধারাবাহিকতায় এল আরও গোল। জোয়াও ক্যানসেলো ৩-০ করলেন, তারপর রোনালদো আবারও জ্বলে উঠলেন—এক অসাধারণ লং রেঞ্জ শটে পেলেন নিজের দ্বিতীয় গোল। ফেলিক্স দ্বিতীয়বার জালে বল জড়িয়ে দিলেন, স্কোরলাইন দাঁড়াল ৫-০।

৪০ বছর বয়সেও রোনালদোর গোলের ক্ষুধা ফুরোয় না। আর্মেনিয়ার বিপক্ষে দুই গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার সংগ্রহ দাঁড়াল ১৪০-এ। প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির থেকে তিনি এখন ২৬ গোল এগিয়ে। ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে তার অবস্থান যেন এক অনন্ত আকাশে।
শুধু গোলই নয়, আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও এখন তার। আর্মেনিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমে ২২২তম ম্যাচ খেললেন তিনি।

দ্বিতীয় গোলের পরিসংখ্যানের পাতা আরও ঝলমল করে উঠল—এটাই তার ক্যারিয়ারের ৯৪২ তম গোল। সামনে কি তবে ১,০০০ গোলের জাদুকরী মাইলফলক? ফুটবলের ইতিহাসে এমন স্বপ্নিল সংখ্যা আর কোনো মানুষের নাগালে পৌঁছায়নি।
ইউরো ২০১৬ আর দু’দুবার নেশন্স লিগ—আন্তর্জাতিক সাফল্যের ঝুলিতে যথেষ্ট রত্ন আছে রোনালদোর। কিন্তু বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি এখনো অধরা। ফেব্রুয়ারিতে ৪১ ছুঁয়ে ফেলবেন তিনি, তবুও বিশ্বাস আছে—পর্তুগালের আক্রমণভাগে আগামী বিশ্বকাপেও সামনের সারিতে থাকবেন সিআরসেভেন।











