শ্রীলঙ্কার হাত ধরে সুপার ফোরের টিকিট নিল বাংলাদেশ। তবে পরের ম্যাচে প্রতিপক্ষের ভূমিকায় দেখা যাবে এই দুই দলকে। এই ম্যাচ ঘিরে বাংলাদেশের পরিকল্পনা কেমন হবে? চার বোলার নিয়ে একাদশ সাজানোর আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত শুধরে নেবে তো বাংলাদেশ? সেক্ষেত্রে ফিফথ বোলার হিসেবে ফিরবেন কে? প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা যাক।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের একাদশ আকস্মিক চমক দেখিয়েছিল। করিয়েছিল চার পরিবর্তন। ব্যাটিং শক্তি বাড়ানোর তাগিদে চারজন বোলার- তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, নাসুম আহমেদ এবং রিশাদ হোসেনকে নিয়ে মাঠে নেমেছিল লিটনরা।
ফিফথ বোলার হিসেবে ভরসা রাখা হয়েছিল শামীম পাটোয়ারী এবং সাইফ হাসানের উপর। পার্ট-টাইম দিয়ে তো আর বোলারের কাজ চলে না, অগত্যা চার ওভারে এই দুজন দিলেন ৫৫ রান। বড় ম্যাচে ম্যানেজমেন্টের এমন জুয়ার খেসারত না দিতে হলেও, বেশ ভুগিয়েছে দলকে।

সুপার ফোরে তাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ফিফথ বোলারের ভূমিকায় ফিরবেন কে? এক্ষেত্রে দুটো নাম হবে বাংলাদেশের সমাধান। তানজিম হাসান এবং সাইফউদ্দিন। তবে একজনই একাদশের আসনে বসার সুযোগ পাবেন। তাই প্রশ্নটা, বেছে নেওয়া হবে কাকে?
তানজিম সাকিব প্রথম দুই ম্যাচে সুযোগ পেয়েছেন। হংকংয়ের বিপক্ষে চার ওভারে ২১ রানের বিনিময়ে নিয়েছিলেন দুই উইকেট। শ্রীলঙ্কার সাথেও যা তিন ওভারের ২৩ রান দিয়ে এক উইকেট। বল হাতে তাঁর আগ্রাসন কিংবা পারফরম্যান্সকে তাই মন্দ বলার উপায় নেই। সেই সাথে ব্যাট হাতেও সুযোগ পেলে রান তুলতে পারেন। সেক্ষেত্রে ব্যাটিংয়ের গভীরতা ঠিকই থাকে।
অন্যদিকে সাইফউদ্দিন স্কোয়াডে আছেন ঠিকই তবে এখনও মাঠে নামা হয়নি। এ বছরে চারটি টি-টোয়েন্টি খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। তিন ইনিংস বল করে শিকার করেছেন চার উইকেট। ব্যাট হাতে দুই ইনিংস সুযোগ মিলেছিল এক ম্যাচে ছয় এবং আরেকটিতে ৩৫ করে ছিলেন অপরাজিত।

তবে সুপার ফোরের বড় লড়াইয়ে সাকিবের আগ্রাসী বোলিংটাই ব্যবধান গড়ে দিতে পারে। তাই লঙ্কানদের বিপক্ষে তাঁকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সংশয় থাকার কথা না ম্যানেজমেন্টের। তবে ফিরলে কপাল পুড়বে কার?
বাংলাদেশ গত ম্যাচে সাতজন প্রপার ব্যাটার নিয়ে খেলেছে। রিশাদ, নাসুমদেরও ব্যাট চালানোর সামর্থ্য আছে। টি-টোয়েন্টির ফরম্যাটে এত ব্যাটারের দরকারটা ঠিক পড়ে না। মোমেন্টাম নির্ভর এই ফরম্যাটে ভারসাম্যটাই বড় কথা।
এক্ষেত্রে একজন ব্যাটারকে বসে যেতে হবে। সাইফ হাসান, তাওহীদ হৃদয়, নুরুল হাসান সোহান নাকি জাকের আলী অনিক। অপশন হিসেবে নাম আসবে এদের। নুরুল হাসান সোহান সুযোগ পেয়েছিলেন গত ম্যাচে ৬ বলে ১২ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেছিলেন। জাকের রান পাচ্ছেন ঠিকই তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করতে পারছেন না। তবে মন্দের ভালো হিসেবে একাদশে রাখা হবে তাঁকে।

বাদ থাকলো হৃদয় এবং সাইফ। গত ম্যাচে ওপেনিংয়ে নড়বড়ে শুরু করেছিলেন সাইফ। তবে শেষমেষ তাঁর ৩০ রানের ইনিংসে বাংলাদেশ ভালো মোমেন্টাম পেয়েছিল। হৃদয়ও খেলেছিলেন ২৬ রানের নক। তবে তাঁর ব্যাটিং জুড়ে রয়েছে আত্মবিশ্বাসের অভাব। এক্ষেত্রে তাঁকে বসিয়ে দিলে মিলতে পারে সমাধান।
সুপার ফোরে প্রতিটা ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। যে দল যত কম ভুল সিদ্ধান্ত নেবে তারাই হাসবে জয়ের হাসি। বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জটা এখানেই। ঠিকঠাক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দলে ভারসাম্য রাখা আর অযাচিত ভুল এড়িয়ে চললেই পরের রাউন্ডের কাজটা কিছুটা হলেও সহজ হবে।
Share via:











