ভারতের কানপুর থেকে ওমানের জাতীয় দল— বিনায়ক শুক্লার ক্রিকেট যাত্রাটা অনেকটা ভিড় ঠেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার রাস্তা বের করার মতোই। উত্তর প্রদেশের প্রতিভার ভিড়ে নিজের জায়গা তৈরি করতে হবে সেটা ভালোভাবেই জানতেন তিনি। চেষ্টা করেছিলেন তবে সুযোগ মেলেনি। সুযোগ না মেলায় জীবনের এক কঠিন সিদ্ধান্ত নেন— পাড়ি জমান ওমানে। ২০২১ সালে নিজের শহর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি, বেরিয়ে পড়েন স্বপ্নের পিছনে।
ওমানে গিয়ে শুরু হয় নতুন অধ্যায়। দিনে অফিসের কাজ, রাতে অনুশীলন— এই দুইয়ের সমন্বয়ে চলতে থাকে বেরসিক জীবন। ডাটা অপারেটর হিসেবে চাকরি চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ক্রিকেটের প্রতি নিজের অনুরাগে কখনও ছাড় দেননি। অবশেষে ২০২৪ সালে ওমান জাতীয় দলে উইকেটকিপার-ব্যাটার হিসেবে অভিষেক হলো। সেই ম্যাচে ৬ নম্বরে নেমে অপরাজিত ৪০ রানের ইনিংস খেলে দলকে ৩৫ রানের জয় এনে দেন।
তবে স্বপ্নের পেছনে যিনি দৌড়েছেন এত পথ তাঁর জন্য যে কেবল গল্পের ভূমিকা লেখা হলো। তাই তো নিজের অধিনায়ক যতিন্দর সিংকে ডেকে বলেছিলেন, ‘পাজি, এশিয়া কাপ খেলনা হ্যায়।’ তার এক বছর পর, ওমান জায়গা করে নিল মহাদেশীয় এই আসরে।

ভারত, পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে গ্রুপ এ-তে ছিল ওমান। পাকিস্তান ও আমিরাতের বিপক্ষে হেরে আসর থেকে ছিটকে গেছে তারা। তবুও শুক্লার আক্ষেপ নেই বরং খুশি তিনি। কারণ শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে খেলতে পারবেন, আর দেখা হবে শৈশবের দুই বন্ধু রিঙ্কু সিং ও কুলদীপ যাদবের সাথে।
নিজের ক্রিকেট জার্নি প্রসঙ্গে শুক্লা বলেন, ‘খুব কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল। আমি ২০২১ সালের নভেম্বর ভারতীয় ক্রিকেট ছেড়ে ওমানে চলে যাই স্বপ্নের পিছনে। আমি ন্যাশনাল মেটাল ক্যানসে ডাটা অপারেটর হিসেবে কাজ করি। কানপুরে আমি স্থানীয় ক্লাবগুলোতে খেলতাম, যেমন পিএসি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, তারপর বিভিন্ন শহরে। কিন্তু সমস্যা ছিল, রাজ্যের হয়ে খেলার সুযোগ পাচ্ছিলাম না।’
ওমানে চলে আসার পর কোচ প্রকাশ পালান্ডের পরামর্শে শুরু হয় কঠোর পরিশ্রমের সময়। দুই বছরের ধারাবাহিক পরিশ্রম ও পারফরম্যান্সের ফলে শেষ পর্যন্ত পেয়েছিলেন জাতীয় দলে সুযোগ। শুক্লার এই ক্রিকেট স্বত্তার অনুপ্রেরণা জুড়ে আছেন ভারতের ক্রিকেট কিংবদন্তি মাহেন্দ্র সিং ধোনি। শুক্লা বলেন, ‘যেভাবে তিনি ম্যাচ ফিনিশ করেন, নেতৃত্ব দেন— তা তুলনাহীন।’

কানপুর থেকে মাসকট, স্বপ্নের পথে বিনায়ক শুক্লা ছুটছেন এখনও। পরিশ্রম আর ধৈর্য্যের মিশেলে নিজের হাতেই লিখেছেন নিজের ভাগ্য।











