পাকিস্তান আজও পারল না, পারল না ক্রিকেট মাঠে ভারতের একনায়কতন্ত্রের বিপরীতে রুখে দাঁড়াতে। নিজেদের হারিয়ে যাওয়া সুখস্মৃতি ফিরিয়ে আনতে। তাই তো দ্বৈরথের উত্তাপ স্পর্শ করলো না ভারতকে, ছয় উইকেটের জয় নিয়ে সুরিয়াকুমাররা মাঠ ছাড়ল মাথাটা উঁচু রেখে।
গ্রুপ পর্বের নাটকীয়তা শেষে সুপার ফোরের মহারণ। টসে জিতলেন সুরিয়াকুমার, সিদ্ধান্ত নিলেন চেজ করতে চান। পাকিস্তানের জন্য এই ম্যাচ মহাগুরুত্বপূর্ণ। সালমান আলীদের যে অনেক কিছুর জবাব দিতে হতো।
আর এই কাজটার দায়িত্ব শুরুতেই পড়ল ফখর জামান আর শাহিবজাদা ফারহানের কাঁধে। শুরুটা ভালোই হলো, তবে আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বলি হলেন ফখর, ফিরলেন ব্যক্তিগত ১৫ রানে।

এরপরই দায়িত্বের ব্যাটন হাতে তুললেন সায়িম আইয়ুব আর ফারহান। তাঁদের প্রতিআক্রমণ এলো, দিশেহারা হলেন বুমরাহ-বরুণরা। দুজনের ৭২ রানের জুটিতে পাকিস্তানের পায়ের তলার মাটি তখন বেশ শক্ত হলো, ফারহানের ব্যাট থেকে আসল ৫৮ রান। তবে মাঝের সময়টাতে রানের গতি রূপ নিল ধীরগতিতে। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান তুলল ১৭১। সালমান-নাওয়াজরা আরেকটু সচেতন হলে যে রানটা পেরুতে পারত ১৮০-এর গণ্ডি।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ছেলেখেলায় মেতে উঠলেন ভারতের দুই ওপেনার। ইনিংসের প্রথম বলেই আফ্রিদিকে ফাইন লেগের উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকালেন অভিষেক। ওটাই নির্ধারণ করে দিল গতিপথ। এরপর সময় যত গড়াতে লাগল জয়ের থেকে পাকিস্তানের দূরত্ব যেন ততই বাড়তে লাগল।
অভিষেক-শুভমান জুটি থেকে ভারতের আসলও ১০৫ রান। ৪৭ রানে শুভমান ফিরলেন ঠিকই, ততক্ষণে ম্যাচ হেলে পড়েছে ভারতের আকাশে। অভিষেক ব্যাটকে তরবারি বানিয়ে পাকিস্তান বোলারদের শাসন করলেন। আগের তিন ম্যাচে রান পেয়েছিলেন ঠিকই তবে বড় করার আক্ষেপ ছিল। আজ তা পুষিয়ে দিলেন, খেললেন ৭৪ রানের ম্যাচ-উইনিং নক।

এরপরই কেবল ঘড়ির কাটার দিকে তাকিয়ে ম্যাচ শেষ হওয়ার অপেক্ষা করল পাকিস্তান। নিয়মরক্ষার্থে বল করে গেলেন ফাহিম-শাহিনরা। সাত বল হাতে রেখেই ছয় উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লেন হার্দিক-তিলকরা।
দিনশেষে আরও একবার প্রমাণ হলো, ভারত-পাকিস্তান জমজমাট দ্বৈরথ কেবল কথার লড়াইয়েই টিকে আছে। এই অপ্রতিরোধ্য ভারতের সামনে সবই যে ঠুনকো, একেবারেই নস্যি।











