ভিসা হয়না সৌম্য-নাঈমের, মাথাব্যাথা হয়না বিসিবির!

পরপর দু'টো ঘটনায় বিসিবির উদাসীনতা ভাবিয়ে তুলছে নিশ্চয়ই। ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ যাদের হাতে, তারা বর্তমানে অবহেলায় রেখেছেন স্কোয়াডের খেলোয়াড়দেরই!

সৌম্য সরকারের পর নাঈম শেখ, সিরিজ শুরুর পরও তারা পৌঁছাতে পারেননি সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এ নিয়ে যেন বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের। তাদের কাছে নির্বাচন আর পরবর্তী উদযাপন হয়ে উঠেছে মুখ্য। জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা যেন অভিভাবকহীন যাযাবর।

এশিয়া কাপের পরপরই সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। লিটন দাসের ইনজুরির কারণে সেই দলে যুক্ত করা হয় সৌম্য সরকারকে। দলের সাথে তিনি আজ যোগ দেবেন, কাল যোগ দেবেন করে করে- তার আর যোগ দেওয়াই হল না।

টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ হয়ে গেছে, বাংলাদেশ হোয়াইটওয়াশও করে ফেলেছে আফগানিস্তানকে। কিন্তু সৌম্য আর পৌঁছাতে পারেনি আরব আমিরাতে। এরপর নাঈম শেখকে রেখে ঘোষণা করা হয়েছিল বাংলাদেশের ওয়ানডে স্কোয়াডে। গত চার অক্টোবর ঘোষণা করা হয় সেই স্কোয়াড। এই সময়ের মধ্যে নাঈম শেখ পাননি আরব আমিরাতে ভ্রমণের অনুমতি। সৌম্যর ঘটনার পরও নাঈমকে যে আগেভাগেও অবহিত করা হয়নি সেটাও অনুমেয়। নতুবা এতদিনে সমাধানে পৌছানো যেত হয়ত।

প্রথম ওয়ানডেতে দল খেলতে নেমে গেছে আবু ধাবির মাঠে। তখনও বাংলাদেশে বসে দিনক্ষণ গুনছেন নাঈম। কখন তার ভিসা তিনি হাতে পাবেন, সেটাও জানেন না। সিরিজ শুরু হওয়ার একদিন আগে খেলা ৭১-কে নাঈম এক ক্ষুদে বার্তায় বলেন, ‘নির্দিষ্ট কোন দিন জানায়নি। ভিসা জটিলতার কারণে এখনও প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় রয়েছে।’

অথচ বিসিবির এ নিয়ে নেই বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা। একটা দেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজের পরিধি ঠিক কতটুকু? একটি সিরিজের স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত খেলোয়াড়ের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা নিশ্চয়ই বিসিবির উপর বর্তায়। এমন সব ভিসা জটিলতায় সরকারের উচ্চ মহলে সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে সমস্যার নিরসন করার দায়িত্ব তো তাদেরই।

পরপর দু’টো ঘটনায় বিসিবির উদাসীনতা ভাবিয়ে তুলছে নিশ্চয়ই। ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ যাদের হাতে, তারা বর্তমানে অবহেলায় রেখেছেন স্কোয়াডের খেলোয়াড়দেরই! খেলোয়াড়রা নিজেদের সামর্থ্য, সক্ষমতা প্রমাণে সুযোগ তো পাচ্ছেনই না- বরং তাদের থাকতে হচ্ছে ধোঁয়াশার মধ্যে। এভাবে আর যাই হোক খেলোয়াড়ের কোন উপকার হয় না, ক্রিকেটেরও উন্নতি করা প্রায় অসম্ভব।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link