প্রথম ওয়ানডে শেষে রিশাদ হোসেন বলেছিলেন, ‘আমার দায়িত্ব হচ্ছে ১৮০ রানকে কিভাবে ২১০-১৫ করা যায় সেটার চেষ্টা করা।’ রিশাদ সেই কাজটাই করলেন, তবে দায়িত্বটা আরেকটু বাড়িয়ে নিলেন। এবার ১৭০ রানকে পরিণত করলেন ২১৩-তে। মাত্র ১৪ বলে ৩৯ করে পুরো ম্যাচের দৃশ্যটাই বদলে দিলেন এক নিমিষে।
মিরপুরের যে উইকেটে অন্য ব্যাটাররা খাবি খেয়েছে, সেখানে দাঁড়িয়েই রিশাদ যেন প্রলয় নৃত্যে মেতে উঠলেন। ব্যাট করলেন প্রায় ২৭৯ স্ট্রাইক রেটে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের নিয়ে স্রেফ ছেলেখেলা করলেন এক প্রান্তে।
গুদাকেশ মোতির শিকার হয়ে যখন সাজঘরে ফিরছিলেন নুরুল হাসান সোহান, দলের অবস্থা তখন ৪৬ ওভার শেষে সাত উইকেট হারিয়ে ১৬৩ রান। রিশাদ বোধহয় একটা ব্রত নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন—চাইলেই মরা উইকেট, নীরব গ্যালারিতেও উচ্ছ্বাসের সঞ্চার ঘটানো যায়।

রিশাদ সেটাই করলেন, এক কথায় ওয়ার্ল্ড ক্লাস ফিনিশিং টানলেন। ৪৯তম ওভারে মোতির বিরুদ্ধে ঝড় তুললেন, আদায় করলেন ১৮ রান। বাংলাদেশ পৌঁছে গেল ১৯৭ রানে। তবে রিশাদ থামলেন না। পরের ওভারে তড়িঘড়ি করে উড়িয়ে আনা আকিল হোসেনকেও উড়িয়ে দিলেন, ওই ওভার থেকে নিলেন ১৬ রান।
আর তাতেই বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ালো ২১৩ রানে। শেষ দুই ওভার থেকে রিশাদের কল্যাণে বাংলাদেশ তুলেছে ৩৪ রান। ৩৯ রানের ইনিংসে হাঁকিয়েছেন তিন চার আর তিন ছক্কা।
আগের ম্যাচেও একই অবস্থা থেকে ১৩ বলে ২৬ করে ম্যাচের গতিপথ পালটে দিয়েছিলেন। বল হাতে ছয় উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব বাদ দিলেও ব্যাটার রিশাদই বা কম কিসে? যেন নতুন রূপে নিজেকে আবিষ্কার করেছেন রিশাদ। এবারের ব্রতটা বোধহয় বিশ্বসেরা হওয়ার।

Share via:











