বিশ্বাসের জেরে বদলে গেল সাইফ-সৌম্য জুটি!

দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে এভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে হয়, ফিরে আসতে হয়। পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক না কেন, নিজের সক্ষমতার ওপর বিশ্বাস রাখতে হয়। সেটাই করলেন সৌম্য সরকার এবং সাইফ হাসান।

দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে এভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে হয়, ফিরে আসতে হয়। পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক না কেন, নিজের সক্ষমতার ওপর বিশ্বাস রাখতে হয়। সেটাই করলেন সৌম্য সরকার এবং সাইফ হাসান। যে ওপেনিং জুটি নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ ছিল না, হয়তো এত সহজে শেষ হবেও না। তবুও দুজনের এই জুটি অন্তত অনেক দিন পর স্বস্তি ফিরিয়ে দিল।

১৭৬ রানের ওপেনিং জুটি আসল ২৫.২ ওভার খেলে। যা বাংলাদেশি ওপেনারদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি। যার পেছনের নায়ক সৌম্য এবং সাইফ। তাও আবার মৃতপ্রায় উইকেটে, যেখানে ব্যাটারদের জন্য টিকে থাকাটাই এক কঠিন লড়াই।

মিরপুরের উইকেটটা রাতারাতি স্পোর্টিং হয়ে যায়নি। টার্ন ছিল, বল উঁচুনিচু হচ্ছিল—সবই চলছিল আগের দুই ম্যাচের মতো। তবে তা তোয়াক্কা করেননি সাইফ–সৌম্যরা। দুজনেই খেললেন ভয়ডরহীন ক্রিকেট। শুরু থেকে আজ কোনো সুযোগ না দিয়ে চড়াও হলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলারদের ওপর। তবে হঠাৎ এক দিনের ব্যবধানে এমন আমূল পরিবর্তনটা আসলে কীভাবে ঘটল?

উত্তরটা—কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। কেবল স্বাভাবিক খেলাটাই খেলেছেন দুই ওপেনার। পার্থক্যটা শুধু মানসিকতার। আগের দুই ম্যাচে খারাপ করেছেন, প্রথম ম্যাচে ৮ রানের জুটি, দ্বিতীয় ম্যাচেও ব্যর্থ হয়েছেন, ২২ এসেছিল। তাই আজ আর হারানোর কিছুই ছিল না।

সাইফ এবং সৌম্য দুজনেই পাওয়ার হিটিংয়ে বিশ্বাসী। সেই বিশ্বাসের ওপর ভরসা করলেন স্রেফ। সমালোচনায় কোণঠাসা দুজন নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেললেন, আর ফলাফলটাও এলো হাতেনাতে। ১৫.৩ ওভারে ১০০ পেরিয়েছে, সৌম্য–সাইফ দুজনের ব্যাটেই ফিফটি ছুঁয়েছে তখন। তবে এতেও তারা থেমে যাননি, তৃপ্তির ঢেকুরও তোলেননি।

শেষটাতে সাইফ থামলেন, ৭২ বলে খেললেন ৮০ রানের আক্রমণাত্মক সাইফসুলভ ইনিংস। তবে তাঁর ফিরে যাওয়ায় আজ আর আফসোস থাকার কথা নয়। স্কোরবোর্ডে যে প্রশান্তি এনে দিয়েছেন এই দুই ওপেনার, সেই সঙ্গে দেখিয়ে দিয়েছেন, মডার্ন ডে ক্রিকেটে মেনে এবং মানিয়ে নিতে হয় এভাবেই।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link