সহজ ম্যাচ কঠিন করা, এরপরই হেরে আসা—বাংলাদেশ দলের মূলমন্ত্র এখন এটাই হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার আরেকটা নিদর্শন হয়ে থাকলো আজকের ম্যাচ। এমন হারের পর প্রশ্ন জাগে, সত্যিই কি এভাবেও হেরে যাওয়া যায়?
টস ভাগ্য আজও সহায় হলো ক্যারিবীয়দের। তবে প্রথম বলেই ব্র্যান্ডন কিংকে ফেরানোর সুযোগ আসে, কিন্তু লিটন দাসের দস্তানা থেকে বেরিয়ে যায় ক্যাচ। অবশ্য পরের ওভারে তাসকিন আহমেদের শিকার হয়ে ফেরেন কিং। তবে তাদের রানের ফোয়ারা দমিয়ে রাখা যায়নি।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ১০৫ রান তোলেন অ্যালিক অ্যাথানেজ এবং শাই হোপ মিলে। এই অবস্থায় বাংলাদেশ তখন একেবারেই কোণঠাসা। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ দেখান নাসুম আহমেদ। পরবর্তীতে রিশাদ হোসেন এবং মুস্তাফিজ সেই পথে হাঁটেন। ফলাফল—১৪৯ রানেই থেমে যেতে হয় উইন্ডিজকে।

বাংলাদেশের সামনে ১৫০ রানের সহজ লক্ষ্য। সাইফ হাসান দ্রুত ফিরে গেলেও লিটন দাস আর তানজিদ তামিম মিলে সামলে নেন সবটা। লিটন ২৩ রানে থামলেও তামিমের ব্যাট ভরসা হয়ে ছিল তখনও। অবশ্য ফিল্ডারদের কল্যাণে জীবনও পেয়েছিলেন তিনি। শেষমেশ থেমেছেন ৪৮ বলে ৬১ রান করে।
তবে এই রান মূল্যহীন হয়ে দাঁড়ায়। দলের কোনো কাজেই তা আসেনি। মাঝের সময়টাতে অতিরিক্ত ডট খেলা, ঝিমিয়ে পড়ার ফলে শেষটাতে তিন ওভারে দরকার পড়ে ৩৩ রান। হাতে অবশ্য তখনও সাত উইকেট। এখান থেকে ম্যাচ বের করাটা খুব বেশি কঠিন না হলেও দলটা তো বাংলাদেশ, তাই সংশয় ছিলই।
সেই সংশয়কে বাস্তব রূপ দেয় মিডল অর্ডার। জাকের আলী, শামীম পাটোয়ারীরা নির্বুদ্ধিতার সর্বোচ্চটা দেখালেন। দলকে হারের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে সাজঘরে ফিরে গেলেন। শেষ ওভারে তাই ২১ রানের হিসাব অসম্ভব হয়ে যায় রিশাদ, সাকিবদের জন্য।

শেষমেশ বাংলাদেশকে হারতে হলো ১৪ রানের ব্যবধানে। সহজ ম্যাচটাকে রীতিমতো পায়ে ঠেলে দিল তারা, সেই সঙ্গে সিরিজ হলো হাতছাড়া। এটা কেবল বাংলাদেশের পক্ষেই সম্ভব, এটা কেবল বাংলাদেশ বলেই সম্ভব।











