প্রথম দিনে দুই দলের দৌড়টা সমানই ছিল, তবে দ্বিতীয় দিনে ব্যবধানটা হলো আকাশ-পাতাল। আর যার পেছনের কারিগর সেনুরান মুত্তুস্বামি এবং মার্কো ইয়ানসেন। মুত্তুস্বামির শতক আর মার্কোর আক্ষেপজড়িত ৯৩ রানের ইনিংসটা ভারতকে ফেলল কঠিন বিপর্যয়ে।
দ্বিতীয় দিনের সকালের সবটা আলো পড়ল মুত্তুস্বামির ব্যাটে। দক্ষিণ আফ্রিকার উপর দিকের ব্যাটাররা সেট হয়ে ফিরে গেছেন আগেই। কারো ব্যাটেই এদিন আর ফিফটি আসেনি। মুত্তুস্বামি সেই শেকল ভাঙার ব্রত নিলেন। চোখে-মুখে আত্মবিশ্বাস, ব্যাটটাও বড় ইনিংসের দিকে ধাবিত হতে থাকে একটু একটু করে।
জাসপ্রিত বুমরাহ, মোহাম্মদ সিরাজ কিংবা কুলদ্বীপ যাদবরা নিরলস চেষ্টা করে গেলেন মুত্তুস্বামিকে ফেরানোর, তবে ব্যর্থতার দেয়ালে বাধাপ্রাপ্ত হলেন বারবার। ইনিংস বড় করতে করতে প্রথমবারের মত মুত্তুস্বামি পেলেন টেস্ট শতকের দেখা। অভিষেকের ছয় বছর পরে এসে শতক ছোঁয়ার আনন্দে ভাসলেন নিজে।

তবে কঠিন পথটা তাঁকে একা একা পাড়ি দিতে হয়নি, সঙ্গী হয়েছিলেন মার্কো ইয়ানসেন। নয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ভারতকে আরও এক কঠিন পরীক্ষায় ফেললেন তিনিও। দুজনে মিলে গড়লেন ৯৭ রানের জুটি। ভারতের বোলাররা তখন যেন একেবারেই দিশেহারা।
অবশেষে ১০৯ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে থামতে হলো মুত্তুস্বামিকে। দলের রান তখন ৪৩১। তবুও হাফ ছেড়ে বাঁচতে পারল না প্রতিপক্ষের বোলাররা। ততক্ষণে যে লাগাম নিয়েছেন ইয়ানসেন। আরও এক শতকের পথে একটু একটু করে হাঁটছিলেন তিনি।
তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে মুত্তুস্বামির মত ব্যাটটাকে আর উঁচিয়ে ধরতে পারলেন না ইয়ানসেন। থেমে গেলেন ৯৩ রানে। চোখে-মুখে হতাশা নিয়ে ফিরে গেলেন ড্রেসিংরুমে। তবে কাজের কাজটা ততক্ষণে যে করে ফেলেছেন তিনি। প্রোটিয়াদের স্কোরবোর্ডে এনে দিয়েছেন ৪৮৯ রানের বিশাল সংগ্রহ।

Share via:











