যাক অবশেষে প্রমাণ হল, রিশাদ হোসেনও আর দশটা বোলারদের মতই একজন। বিগ ব্যাশে তার কেটেছে বেজায় বাজে দিন, কিন্তু! আপাতদৃষ্টিতে চার ওভারে ৩৫ রান হজম করা ও বিনা উইকেট প্রাপ্তিকে, মোটাদাগে বলে দেওয়া যায় রিশাদের জন্য দিনটা মোটেও ভাল কাটেনি। তবে এই খারাপ দিনেও ফুটে উঠেছে রিশাদের গুরুত্ব। তার বাজে দিনে হোবার্ট হ্যারিকেন্সেরও বেজায় ধুকেছে।
এদিন রিশাদ দু’টো ভিন্ন স্পেলে বোলিং করেছেন। পার্থ স্কোর্চার্সের বিপক্ষে প্রথম দুই ওভারের স্পেলে রিশাদের খরচা ছিল মাত্র ১১ রান। কিন্তু উইকেট তিনি শিকার করতে পারেননি। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে তিনি এসেছিলেন বোলিং প্রান্তে। সাধারণত ওই সময়টায় একটা উইকেটের অনুসন্ধান চালায় হোবার্ট হারিকেন্স। বিগত প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই রিশাদ সফলতা এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু এদিন তিনি ব্যর্থ হয়েছেন উইকেট তুলে নিতে।
আর সেখান থেকেই যেন সৃষ্টি হয় এক ধ্বংসযজ্ঞের। রিশাদের দুই ওভার সহ প্রথম আট ওভারে পার্থ স্কোর্চার্সের স্কোরবোর্ডে রান ছিল মাত্র ৬৮। দুই উইকেটের বিনিময়ে। কিন্তু সেখান থেকে পার্থ তাদের ইনিংস শেষ করেছে ২২৯ রানে। মাঝের সময়টাই ঠিক কি ঝড় বয়ে গেছে তা নিশ্চয়ই আন্দাজ করে নেওয়া যায়। মিচেল মার্শ তো সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ফেলেন, স্রেফ ৫৫ বলে। মার্শ ও অ্যারন হার্ডি মেতে ওঠেন ধ্বংসের উন্মত্ত লীলায়।

তাদের সামনেও রিশাদ ছিলেন বেশ সংযত। যেখানে দলের বাকিরা ওভার প্রতি প্রায় ২০ রান করে হজম করছেন, সেখানে পরের দুই ওভারে রিশাদের খরচ সর্বোমোট ২৪ রান। মার্শের বিপক্ষে তিনি প্রমাণ করেছেন তিনি স্রেফ ওয়ান ডাইমেনশনাল বোলার নন। আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের খেসারত হিসেবে তাকে ছক্কার প্রহার সহ্য করতে হয়। কিন্তু যেই মুহূর্তে তিনি উপলব্ধি করলেন এদিন আর উইকেট পাওয়া সম্ভব নয়, তিনি তার বোলিংয়ের ধরণ চেঞ্জ করলেন।
রক্ষনাত্মক ভঙ্গিমায় তিনি রানের চাকায় একটুখানি লাগাম টেনে ধরার চেষ্টা করেন। অফ স্ট্যমাপের বাইরের চ্যানেল ধরে গুগলিতে পরাস্ত করেন মিচেল মার্শ। কোন প্রকার রান না হওয়ায়, গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস ফুটে ওঠে। এতটাই ব্যাটিং প্রলয় চলেছে ময়দানে। এতসব কিছু ঘটেছে স্রেফ রিশাদের দিনটা বাজে কেটেছে বলে।
তবুও তিনি ছিলেন দলের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন খরুচে বোলার। স্রেফ ৮.৭৫ ইকোনমিতে রান বিলিয়েছেন। দলের বাকিদের ইকোনমি রেট দশের গণ্ডি পেরিয়ে বহুদূর অবধি এগিয়েছে। বাজে ম্যাচের এমন দিনও বরং বলে দেয়, রিশাদ ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ।












