পিএসএলে মুস্তাফিজকে ঘিরে হতে পারে তুমুল লড়াই

পিএসএলের যেকোনো দলই ফর্মে থাকা এই তারকা পেসারকে নিজেদের দলে ভেড়াতে চাইবে। তাতে করে মুস্তাফিজের সেই সময়টুকু অন্তত অলস বসে কাটাতে হবে না।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) না খেলায় আসন্ন পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) নাম লেখানোর সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে মুস্তাফিজুর রহমানের। সেক্ষেত্রে পিএসএলের যেকোনো দলই ফর্মে থাকা এই তারকা পেসারকে নিজেদের দলে ভেড়াতে চাইবে। তাতে করে মুস্তাফিজের সেই সময়টুকু অন্তত অলস বসে কাটাতে হবে না। আর্থিক লোকসান পুরোপুরি সমাধান না হলেও, একেবারেই মন্দ পারিশ্রমিক মিলবে না তার।

  • কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স

দুইবারের পিএসএল চ্যাম্পিয়ন কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের পেস বিভাগে তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেল রয়েছে। তবুও বাস্তবে দলটির বোলিং অনেকটাই নির্ভরশীল মোহাম্মদ আমিরের ওপর। পাওয়ারপ্লেতে আমিরের কার্যকারিতা প্রশ্নাতীত হলেও, মধ্য ও ডেথ ওভারে রান নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি প্রায়ই ভুগিয়েছে কোয়েটাকে।

এই জায়গাতেই মুস্তাফিজুর রহমান হতে পারেন আদর্শ সমাধান। ১১ বছরের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে তাঁর ২২৬ উইকেটের মধ্যে ১২৪টিই এসেছে ডেথ ওভারে। ডেথ ওভারে তাঁর স্ট্রাইক রেট মাত্র ১২.৯।

 

  • করাচি কিংস

২০২০ সালের পিএসএল চ্যাম্পিয়ন করাচি কিংসের স্কোয়াডে হাসান আলী ও আব্বাস আফ্রিদির মতো উইকেটশিকারি থাকলেও, তাঁদের অতিরিক্ত রান খরচ দলটির জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পিএসএল ২০২৫ এ এই দুই পেসারই নিয়েছেন ১৭টি করে উইকেট। কিন্তু আব্বাস আফ্রিদির ইকোনমি রেট ছিল ১০.২৬, আর হাসান আলীর ৯.০৪। যা টি-টোয়েন্টির মানদণ্ডে অনেকটাই ব্যয়বহুল।

এমন বাস্তবতায় মুস্তাফিজুর রহমান করাচি কিংসের জন্য বনে যেতে পারেন তুরুপের তাস। মাঝের ওভারগুলোতে তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিং প্রতিপক্ষের রানের ধারায় ব্যঘাত ঘটাতে সাহায্য করবে, পাশাপাশি ডেথ ওভারে আব্বাস আফ্রিদির সঙ্গে দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে দলের বোলিং আক্রমণে ভারসাম্য আনতে পারবেন তিনি।

  • ইসলামাবাদ ইউনাইটেড

গত মৌসুমে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের পেস আক্রমণ সাজানো ছিল জেসন হোল্ডার ও নাসিম শাহকে ঘিরে। এই দুই বোলারই সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন, যা একদিকে ধারাবাহিকতা এনে দিলেও অন্যদিকে বিকল্পের অভাব স্পষ্ট করে তুলেছিল। মুস্তাফিজুর রহমান এই শূন্যতা পূরণ করতে পারেন অনায়াসেই। বিশেষ করে ৭ থেকে ১৫ ওভারের মধ্যবর্তী সময়ে। টি-টোয়েন্টিতে মধ্য ওভারে তাঁর কার্যকারিতা পরিসংখ্যানেই ধরা পড়ে।

১২৬ ইনিংসে মধ্য ওভারে ১৬২.২ ওভার বল করে দ্যা ফিজ নিয়েছেন ৪৭টি উইকেট। ইকোনমি রেট ৬.৯২ এবং স্ট্রাইক রেট ২০.৭। যা নিঃসন্দেহে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্য মানসম্পন্ন।  ২০২৪ সালে শিরোপা জয়ের পর তৃতীয় পিএসএল ট্রফির লক্ষ্যে এগোতে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের জন্য মুস্তাফিজুর হতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ এক কৌশলগত অস্ত্র।

 

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link