‘পৃথিবী বদলে গেছে যা দেখি নতুন লাগে’- সাঞ্জু স্যামসন বাংলা জানলে নিশ্চিত এই লাইনটুকু গুণগুণ করে গাইতেন সারাদিন। যে সাঞ্জুকে ঘিরে ক’দিন আগেও ছিল তাচ্ছিল্যের সুর, সেই সাঞ্জুর গলায় এখন ঝুলছে অধিনায়কের প্রশংসার পুষ্পমালা। ক’দিন আগের উপহাস এক ইনিংসেই বনে গেছে গর্বের ইতিহাস।
সাঞ্জুর পাশে দাঁড়িয়ে যখন প্রশংসার স্তুতিগাঁথা শোনাচ্ছিলেন সুরিয়াকুমার যাদব, তখন হয়ত স্যামসনের মানসপটে ভেসে যাচ্ছে সেসকল অবজ্ঞার দিনগুলো। খানিকটা অবিশ্বাস্য, খানিকটা পরিহাস নিয়ে সাঞ্জু স্যামসন তাইতো বলেই বসলেন, ‘বাস কার পাগলে আব রুলায়েগা ক্যা?’ যার বাংলা অর্থ, ‘ব্যাস অনেক হয়েছে এখন কান্না করাবা নাকি?’
এই তো সেদিন ২১ ফেব্রুয়ারির ঘটনা, একের পর এক ম্যাচ বাজে খেলে যাচ্ছেন অভিষেক শর্মা। স্বাভাবিকভাবেই অধিনায়ক সুরিয়াকুমার যাদবকে প্রশ্ন করা হল, সাঞ্জুকে বাজিয়ে দেখা হবে কি না। সেই প্রশ্নের উত্তরে সুরিয়া বলেছিলেন, ‘মানে আপনি বলতে চান অভিষেকের জায়গায় ওকে খেলাব?’

সাংবাদিক বললেন, ‘না, হয়ত নম্বর তিনে।’ এরপর সুরিয়া আবার সুরিয়া প্রশ্ন ছুড়ে দেন সুরিয়া, ‘মানে তিলকের জায়গায় খেলাব?’ আর এই দু’টো প্রতিক্রিয়াতে সুরিয়ার বাচনভঙ্গিতে ছিল তীব্র তাচ্ছিল্য। ব্যর্থ অভিষেকের চাইতেও সাঞ্জু তুচ্ছ! সেই সুরিয়াকুমারকে চোখে আঙুল দিয়ে সাঞ্জু বোঝালেন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকণাই গড়ে তোলে মহাদেশ।
৯৭ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলে তিনি ভারতকে তুলেছেন সেমিফাইনালে। বাঁচা-মরার লড়াইয়ে একাই দাঁড়িয়েছিলেন সকল প্রতিকূলতার প্রতিরোধ হয়ে। ম্যাচ শেষে, ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করা এক ভিডিও বার্তায় সাঞ্জুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ সুরিয়াকে দেখা যায়।
ভিডিওর শুরুতেই সুরিয়া বলে বসেন, ‘আমি সবসময় বলি, ভালো মানুষের সঙ্গেই ভালো ঘটনা ঘটে।’ কিন্তু এতকাল যে ভাল মানুষটির সাথে ভাল ঘটেনি সেই উপলব্ধিও আসতে সময় নেয়নি অবশ্য। সেই ভিডিওর এক পর্যায়ে সুরিয়াকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি পুরো বছরে ওর সাথে কী কী হয়েছে—পজিশন হারানো, নিজের স্বাভাবিক জায়গার বাইরে ব্যাট করা, তারপর আবার ফিরে এসে একই পজিশনে ব্যাট করা—এসবের দিকে যেতে চাই না। এটা মোটেও সহজ নয়।’

এইটুকু বলার সময় অবশ্য কিঞ্চিৎ অপরাধবোধও কাজ করেছে সুরিয়ার মধ্যে। তিনি জানতেন সাঞ্জুর প্রতিভা তাচ্ছিল্য কিংবা উপহাসের নয়, কারো থেকে কোন অংশে কমও নয়। তবে তাকে বাধ্য হয়েই নিতে হয়েছে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত। তবে কিছু কিছু সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণিত হয়, করতে হয়- সেটাই করে দেখিয়েছেন সাঞ্জু স্যামসন।











