মুম্বাইয়ের আকাশছোঁয়া উত্তাপ আর গ্যালারির গগনবিদারী গর্জনের আবহে এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের প্রহর গুনছে ক্রিকেট বিশ্ব। স্বাগতিক ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং-বোলিং লাইনআপের সামনে ইংলিশদের তুরুপের তাস হয়ে উঠতে পারেন দলের দুই নির্ভরযোগ্য অলরাউন্ডার – উইল জ্যাকস এবং স্যাম কারান। পরিসংখ্যান আর মাঠের অভিজ্ঞতা, দুই দিক থেকেই তারা এখন ইংল্যান্ড শিবিরের বড় ভরসা।
যখনই দল সংকটে পড়েছে, যখনই ডাগআউটে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে, তখনই ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন উইল জ্যাকস। কখনো গতির ঝড় থামিয়ে দিয়েছেন তার জাদুকরী অফ স্পিনে, আবার কখনো খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তুলেছেন টর্নেডো গতির ব্যাটিংয়ে। দলের ছয় জয়ে চারটিতেই ম্যাচ সেরা তিনি।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে আইপিএল খেলার সুবাদে ওয়াংখেড়ের চরিত্রও জ্যাকসের নখদর্পণে। ওয়াংখেড়ের পিচ নিয়ে জ্যাকস বলেন, “উইকেট বেশ ভালো হবে বলে মনে হচ্ছে। বোলারদের জন্য এটি চ্যালেঞ্জিং মাঠ, তবে আমরা আমাদের পরিকল্পনা নিয়ে প্রস্তুত।”

জ্যাকসের ঠিক এক ধাপ উপরে, ছয় নম্বরে ব্যাট হাতে নামেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার স্যাম কারান। টুর্নামেন্টে সাত ইনিংসে ১৪৯ রান এবং ছয়টি উইকেটের পরিসংখ্যান হয়তো সবটুকু বলে না, কিন্তু ওয়াংখেড়ের মতো রান প্রসবা মাঠে স্লগ ওভারে কারানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংই হবে ইংল্যান্ডের বড় অস্ত্র।
শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জ্যাকসের অলরাউন্ড নৈপুণ্য ছিল দেখার মতো। দুই উইকেট নেওয়ার পর ১৮ বলে অপরাজিত ৩২ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন। শেষ ১৮ বলে ৪৩ রানের সমীকরণ মিলিয়েছিলেন তরুণ রেহান আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে। আবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাওয়ার প্লেতেই তিন উইকেট নিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, ম্যাচের যেকোনো পর্যায়ে তিনি রুদ্রমূর্তি ধারণ করতে পারেন।
স্বাগতিক ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং দুর্গের সামনে ইংল্যান্ড তাকিয়ে আছে তাদের এই ভারসাম্যপূর্ণ অলরাউন্ডারদের দিকে। মাঠের লড়াই শুরুর আগে জ্যাকস আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বললেন, ‘ভারত অত্যন্ত শক্তিশালী দল। উইকেট ধীরগতির হলে আমরা আমাদের স্লোয়ার অস্ত্রগুলো ব্যবহার করব, নতুবা থাকবে গতির বৈচিত্র্য। সব মিলিয়ে এক জমজমাট লড়াইয়ের অপেক্ষায় আমরা।’











