টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা একাদশ!

ভারতের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়েই শেষ হলো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আসর। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স দিয়ে অনেকেই আলো ছড়িয়েছেন, অনেকেই আবার ব্যর্থতার শেকল ভেঙে বেরিয়ে আসতে পারেননি। খেলা ৭১-এর এই আয়োজনটা বিশ্বকাপের সেরা একাদশ নিয়ে। দেখে নেওয়া যাক কারা ঠাঁই পেয়েছেন সেরাদের কাতারে।

ভারতের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়েই শেষ হলো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আসর। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স দিয়ে অনেকেই আলো ছড়িয়েছেন, অনেকেই আবার ব্যর্থতার শেকল ভেঙে বেরিয়ে আসতে পারেননি। খেলা ৭১-এর এই আয়োজনটা বিশ্বকাপের সেরা একাদশ নিয়ে। দেখে নেওয়া যাক কারা ঠাঁই পেয়েছেন সেরাদের কাতারে।

  • শাহিবজাদা ফারহান

বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডার একার কাঁধেই টেনে নিয়ে গেছেন শাহিবজাদা ফারহান। সাত ম্যাচে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৩৮৩ রান, গড় প্রায় ৭৭। বিশ্বকাপের একক আসরে সর্বোচ্চ রান। ওপেনিং রোলে একটা জায়গা তাই তাঁরই।

  • ব্রায়ান বেনেট

ব্যাট হাতে জিম্বাবুয়ের হয়ে রীতিমতো বিস্ময় জাগিয়েছেন ব্রায়ান বেনেট। অস্ট্রেলিয়াকে আসর থেকে বের করে দেওয়া, এরপর লঙ্কান বধ—সাথে অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা মুগ্ধ করে রেখেছিল সবাইকেই। ছয় ম্যাচে ২৯২ রান, গড় ১৪৬। এটাকে অবিশ্বাস্য না বলে কি আর উপায় আছে।

  • সাঞ্জু স্যামসন

অবহেলিত সাঞ্জু স্যামসন সুযোগ পেয়ে কাজে লাগাতে ভুল করেননি একচুলও। ভারতকে বিশ্বজয়ের স্বাদ দেওয়ার নেপথ্যে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। পাঁচ ম্যাচে ৮০ গড়ে ৩২১ রান তাঁরই প্রমাণ। পুরস্কার মিলেছে হাতেনাতে। আসরের সেরা খেলোয়াড়ের খেতাব জুটেছে তাঁর। সেরা একাদশের উইকেটকিপারও অবশ্য তিনি।

  • জ্যাকব বেথেল

সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি, আসরজুড়ে ইমপ্যাক্টফুল সব ইনিংস—জ্যাকব বেথেল ইংল্যান্ডের ভরসা হয়েই থেকেছেন। আট ইনিংসে ব্যাট থেকে এসেছে ২৮০ রান। মিডল অর্ডারে বেথেলই নির্ভরযোগ্য নাম।

  • শিভাম দুবে

আসরজুড়ে ২৩৫ রান আর পাঁচ উইকেট নেওয়া শিভাম দুবেকে পরিসংখ্যানের আলোকে বিচার করার কোনো সুযোগ নেই। পার্শ্বনায়কের ভূমিকায় ভারতের জয়ে অবদান রেখেছেন আসরজুড়ে। এককথায় ইমপ্যাক্ট কিং শিভাম দুবে।

  • সিকান্দার রাজা

ছোট দলের মহাতারকা সিকান্দার রাজা। ছয় ম্যাচে পাঁচ উইকেট, সাথে ২০৬ রান। পারফরম্যান্স ছাপিয়ে নেতৃত্বগুণে দলকে সুপার এইটে তোলা। সেরা একাদশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নামটাই সিকান্দার রাজা।

  • উইল জ্যাকস

চারখানা ম্যান অব দ্য ম্যাচ। ইংল্যান্ডকে একাই যেন সেমিফাইনালে নিয়ে এসেছেন উইল জ্যাকস। শেষদিকে ঝড় তোলার পাশাপাশি ব্যাট হাতে করেছেন ২২৬ রান। তাঁর বীরত্বগাঁথা এখানেই শেষ না, বল হাতেও ছিলেন আসরজুড়ে দারুণ কার্যকর, নয় উইকেট পুরেছেন নিজের ঝুলিতে।

  • মিচেল স্যান্টনার

নিউজিল্যান্ডকে যোগ্য সেনাপতির মতো পথ দেখিয়েছেন মিচেল স্যান্টনার। শিরোপা ছোঁয়া না হলেও এই একাদশের অধিনায়ক তিনি। দলের দরকারে অবদান রেখেছেন নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে।

  • লুঙ্গি এনগিডি

দক্ষিণ আফ্রিকার সাফল্যের বড় কৃতিত্বটা লুঙ্গি এনগিডির। সাত ম্যাচে শিকার করেছেন ১২ উইকেট। ইকোনমি সাতের একটু বেশি। প্রোটিয়াদের সেরা বোলার তিনি।

  • জাসপ্রিত বুমরাহ

দ্য ম্যাজিক ম্যান জাসপ্রিত বুমরাহ। তিনি না থাকলে ভারতের শিরোপা ছোঁয়াই হতো না। যখন দরকার তখনই বিস্ময় নিয়ে হাজির হয়েছেন। আট ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়ে আসরের সেরা বোলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

  • বরুণ চক্রবর্তী 

খরুচে হলেও আসরজুড়ে বুমরাহর সমান সংখ্যক উইকেট নিয়ে সেরা একাদশে ঢুকে পড়েছেন বরুণ চক্রবর্তী। নয়ের উপরে ইকোনমি রেটটা শোভনীয় না হলেও উইকেট শিকারের বিবেচনায় অনেকটা বাধ্য হয়েই একাদশে তাঁকে রাখা।

বিশ্বকাপে শিমরন হেটমায়ারও অবিস্মরণীয় সময় কাটিয়েছেন বটে। তবে টিম কম্বিনেশনের মারপ্যাঁচে এই একাদশ থেকে তাঁকে অনেকটা নিরুপায় হয়েই বাদ দিতে হয়েছে।

সবমিলিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেরা একাদশ দাঁড়াচ্ছে: শাহিবজাদা ফারহান, ব্রায়ান বেনেট, সাঞ্জু স্যামসন (উইকেটকিপার),  জ্যাকব বেথেল, শিভাম দুবে, সিকান্দার রাজা, উইল জ্যাকস, মিচেল স্যান্টনার(অধিনায়ক), লুঙ্গি এনগিডি, জাসপ্রিত বুমরাহ এবং বরুণ চক্রবর্তী।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link