একটা রানআউটে মেহেদী হাসান মিরাজকে কেউ তুলছেন কাঠগড়ায়, কেউ বা দাড়াচ্ছেন তার পাশে। সালমান আলী আঘাকে করা সেই রানআউটই যেন ছিল দ্বিতীয় ওয়ানডের সবচেয়ে বড় হেডলাইন। মিরাজ কাজটা ঠিক করেছেন নাকি বেঠিক- তা নিয়ে বিতর্ক চলছে অনবরত। তাতে করে এদফা অন্তত বোলার মিরাজের প্রত্যাবর্তনের যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে- তা থেকে যাবে লোকচক্ষুর আড়ালে।
দ্বিতীয় ওয়ানডের আগের দিন একটা ভিডিও বার্তায় মিরাজ পরিষ্কার করেছেন- তিনি নিজের বোলিংয়ে বাড়িয়েছেন মনোযোগ। আর সেই মনোযোগের ফলাফল প্রতিফলিত হতে শুরু করেছে বাইশ গজে। এদিন পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরাজ কঠিন সময়ে বল হাতে নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন দায়িত্ব।
গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রেকথ্রু এনে দিয়েছিলেন। মাজ সাদাকাত ও শাহিবজাদা ফারহানের জমাট বাঁধা জুটিতে তিনি আঘাত হেনেছেন। আক্রমণাত্মক মাজ সাদাকাতকেই ফিরিয়েছেন। এরপর দারুণ বিচক্ষণতায় তিনি আরেক জমাট বাঁধা জুটিতে ভাঙন ধরান সালমানকে রান আউট করে।

তাছাড়া থিতু হয়ে যাওয়া মোহাম্মাদ রিজওয়ানের উইকেটও গিয়েছিল মিরাজের পকেটে। বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হওয়া ম্যাচটায় মিরাজ দশ ওভারে খরচ করেছেন মোটে ৩২ রান। দুই মেইডেন ওভারে পাকিস্তানের রানের চাকা লাগাম টেনে ধরেছিলেন একটা পর্যায়ে। যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল পাকিস্তানের ওপেনিং জুটি- তাতে করে ৩০০ ছাড়ানো সংগ্রহ ছিল অবধারিত।
কিন্তু প্রয়োজনের মুহূর্তে মিরাজের উইকেট তুলে নেওয়া, বিচক্ষণতার পরিচয় দেওয়া- এসব কিছুই প্রমাণ করছে বোলার মিরাজ ফিরছেন আবার স্বরুপে। এজন্য অবশ্য বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদও পেতে পারেন প্রশংসা। কেননা ধরেবেঁধে তিনিই যে মিরাজকে বোলিংয়ের বাড়তি অনুশীলন করাচ্ছেন। নিজ মুখেই তা জানিয়েছনে ম্যাচ শেষে।
এখন দেখবার পালা, মিরাজের কার্যকর বোলিংয়ের এই ধারা কতদিন অবধি দীর্ঘায়িত হয়। স্পোর্টিং উইকেটে তিনি নিয়ম করে উইকেট তুলে নিতে না পারলে, তা বাংলাদেশের জন্য ভীষণ দুশ্চিন্তার কারণে পরিণত হবে দিনশেষে। অতএব মিরাজকে আরও বেশি নিজের বোলিংয়ে মনোযোগ বাড়াতে হবে, সাথে ব্যাটিংকে ভুলে গেলে চলবে কি করে!












