টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উত্তাপ এখন ধীরে ধীরে কমে এসেছে। তবে ট্রফি জয়ের আনন্দে এখনো ভাসছে ভারত। আহমেদাবাদে ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে তারা টানা দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে। কিন্তু টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পরও ক্রিকেট দুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মাঠের কোনো পারফরম্যান্স নয়, বরং আইসিসির শীর্ষ প্রশাসক জয় শাহ।
বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর ভূমিকা ও আচরণ নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। আইসিসির প্রধানের দায়িত্বে থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে জয় শাহ যেন এখনো ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের একজন কর্মকর্তা হিসেবেই আচরণ করছেন।
২০২৪ সালের আগস্টে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আইসিসি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন জয় শাহ। এর আগে দীর্ঘদিন তিনি বিসিসিআইয়ের সচিব ছিলেন। সেই অতীত ভূমিকার ছাপ এখনো তাঁর কার্যকলাপে দেখা যাচ্ছে।

বিতর্কের সূত্রপাত একটি উদ্যাপনের ভিডিও ঘিরে। গত ১০ মার্চ ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের পর বিসিসিআই সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে বার বার দেখা যায় জয় শাহকে। তিনিও নিজের পরিচয় ভুলে উদযাপন করছেন।
ক্রিকেট বিশ্লেষণভিত্তিক পডকাস্ট ‘দ্য ফাইনাল ওয়ার্ড’-এ এ প্রসঙ্গে কথা বলেন সাংবাদিক অ্যাডাম কলিন্স ও ক্রীড়া লেখক জিওফ লেমন। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে থাকা একজন ব্যক্তির এমনভাবে উদ্যাপনের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসা কিছুটা অস্বাভাবিক। আইসিসি চেয়ারম্যানের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও দূরত্ব বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলেও মত তাঁদের।
এরপর নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয় আরেকটি ঘটনায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত এক কলামে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বকাপ জয়ের পর ভারতের অধিনায়ক সূরিয়াকুমার যাদব ও কোচ গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের পাশের হনুমান টেকরি মন্দিরে যান জয় শাহ। সে সময় সূরিয়াকুমারের হাতেই ছিল আইসিসির ট্রফি।

সমালোচকদের মতে, একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ট্রফিকে নির্দিষ্ট কোনো উপাসনালয়ের সঙ্গে যুক্ত করা আইসিসি চেয়ারম্যানের নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলতে পারে। বিশেষ করে ভারতের এই শিরোপা জয়ে বিভিন্ন ধর্মের ক্রিকেটারদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।











